Home আন্তর্জাতিক গ্রিনল্যান্ড পেতেই চান ট্রাম্প, নজর চাগোস দ্বীপপুঞ্জেও

গ্রিনল্যান্ড পেতেই চান ট্রাম্প, নজর চাগোস দ্বীপপুঞ্জেও

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে আরও কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড তাঁর চাই। এ অবস্থায় ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের ইচ্ছার বিরুদ্ধে খুব বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা এখনও জানাননি। তবে শুল্ক আরোপ হলে পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তারা।

এর মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড না পেলে তিনি শুল্ক বাড়িয়ে প্রয়োজনে ১০০ শতাংশ করতেও দ্বিধা করবেন না। বিবিসি ও রয়টার্স গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানিয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউরোপের উদ্দেশে বার্তা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। বার্তায় তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বলেন, ‘আমাদের এটা পেতেই হবে। তারা এটি রক্ষা করতে পারবে না।’

এর আগে ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর একটি বার্তা শেয়ার করেন। মাখোঁ ট্রাম্পকে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কী করছেন তা বুঝতে পারছি না।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাখোঁর এই বক্তব্য শেয়ার করে মূলত ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের বার্তাকেই আরও জোরালো করেছেন।

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো মহাসচিবের বার্তাও শেয়ার করেছেন। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, মার্ক রুটে সিরিয়ায় কাজের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

দাভোস সম্মেলনেও ট্রাম্পের কড়া বার্তা
দাভোসে স্থানীয় সময় বুধবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা নিয়ে তিনি ইউরোপের অন্যান্য নেতার সঙ্গে কথা বলতে চান। ট্রাম্প মনে করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তাই এই ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বসহ চলমান পরিস্থিতির ব্যাপারে সবকিছু স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখান থেকে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। এই পরিকল্পনা ওয়াশিংটন বাস্তবায়ন করবেই। এটা জাতীয় ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আগের মতো আভাস দেন, চীন ও রাশিয়া আর্কটিক অঞ্চলে (উত্তর গোলার্ধ) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সক্রিয় হওয়া।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইউরোপের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা আন্তর্জাতিকভাবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

স্বাধীন ইউরোপ গড়ে তোলার সময় এসেছে: ইউরোপীয় কমিশন
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন বলেছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক ধাক্কা ইউরোপের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় স্বাধীনতার একটি নতুন রূপ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, এই প্রয়োজনটি নতুন বা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি অনেক দিন ধরে ইউরোপের কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা। যদি এই পরিবর্তন স্থায়ী হয়, তাহলে ইউরোপকেও স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে হবে। এই সুযোগটি কাজে লাগানোর এবং একটি নতুন স্বাধীন ইউরোপ গড়ে তোলার সময় এসেছে।

তিনি যোগ করেন যে, ইইউ ‘শুল্কের চেয়ে ন্যায্য বাণিজ্য, বিচ্ছিন্নতার চেয়ে অংশীদারিত্ব, শোষণের চেয়ে স্থায়িত্ব’ বেছে নিচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে তাঁকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা স্থাপনের চিত্র দেখানো হয়েছে। ছবিতে তাঁর পাশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়েছেন।

ছবিটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে উত্তর আমেরিকা, কানাডা এবং গ্রিনল্যান্ডকে একটি মার্কিন পতাকা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। মূল ছবিটি ইউক্রেন সংঘাতের সম্মুখ রেখাকে চিত্রিত করেছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আমরা স্বৈরাচারের দিকেই ঝুঁকছি: মাখোঁ
দাভোস সম্মেলনে ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, যখন শান্তি ও স্থিতিশীলতা খোঁজা হচ্ছে, তখনই আমরা একটি অস্থির ও ভারসাম্যহীনতার সময়ে পৌঁছে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা কোথায় আছি, তা পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমরা মূলত স্বৈরাচারের দিকেই ঝুঁকছি। নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা স্বৈরাচারী মনোভাব দেখতে পাচ্ছি। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

যা বললেন স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক রাজ্যের জনগণের। তিনি বলেন, আর্কটিকে সুরক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে হবে সবার স্বার্থে এবং যুক্তরাজ্য মিত্রদের সঙ্গে অবদান রাখতে প্রস্তুত।

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পলসেন বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটো নজরদারি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা নিজেদের চাপের মুখে পড়তে দেব না, এমনকি ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ করা হলেও।

ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে ‘নজর’ ট্রাম্পের
ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে ‘চরম বোকামি’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এমন বার্তা দেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ব্রিটিশ সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে লেখেন, ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি মরিশাসের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেখানে আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোনো সংগত কারণ ছাড়াই তারা এটি হস্তান্তর করছে।

ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম দুর্বলতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, চীন ও রাশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কেবল ‘শক্তিমত্তা’ চিনতে জানে এবং তারা এই দুর্বলতার সুযোগ নেবে।

তিনি বলেন, ব্রিটেনের এই ‘বোকামি’ প্রমাণ করে, কেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া জরুরি। তিনি ডেনমার্ক ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের এ বিষয়ে ‘সঠিক কাজ’ করার আহ্বান জানান।

গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠাল ডেনমার্ক
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মুখে সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত বিশাল এ অঞ্চলটি দখলে অনড় ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ডিআর ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ডেনমার্কের সেনাপ্রধান পিটার বয়সেনের নেতৃত্বে এক দল সেনা গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় কাঙ্গারলুসুয়াকে পৌঁছেছেন। নতুন করে সেখানে ৫৮ জন সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা আগে থেকেই সেখানে অবস্থানরত ৬০ জন ড্যানিশ সেনার সঙ্গে যোগ দেবেন। তারা বর্তমানে ‘অপারেশন আর্কটিক এনডিউরেন্স’ নামক একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন।