অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সব অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী। এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না; কিন্তু গণভোট নিয়ে যে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। এটি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এনসিপি মুখপাত্র বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সকল লক্ষণ ফুটে উঠছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করব। আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আপনারা (বিএনপি সরকার) প্রায়ই বলেন যে, আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই ৭১ সংঘটিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বিএনপিকে সংবিধানের কথা বলতে দেখি। অথচ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘এবারের গণভোট হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে। গণভোটে জনগণ কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।