অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক, কিন্তু তেহরান বলছে, এ ধরনের যেকোনো নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই সীমিত সংখ্যক বছরের জন্য হতে হবে।
এছাড়া বড় অংকের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান, ফলে সংকটের স্থায়ী সমাধানে ইরানের শর্তেই আটকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ইরানের দেয়া শর্তগুলো তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সেগুলো হলো-
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। তবে হরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটি জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রাখবে তারা। অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়া হবে না।
জব্দকৃত সম্পদ
একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদেশে আটকা পড়া প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ
আলোচনায় ইরান এক বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ২৭ হাজার কোটি ডলার (২৭০ বিলিয়ন)।






