ই-পেপার

ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে মার্কিন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হুতিদের বাজিমাত

কোড’ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪১
৭০ ভিউ
ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে মার্কিন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হুতিদের বাজিমাত

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : কোড’ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে কাজ করছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাইডেড রকেট, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি হাইপারসনিক গ্লাইড যানের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। খবর ক্ল্যাশ রিপোর্টের।

অ্যানথ্রোপিকের সেপ্টেম্বর মাসের একটি থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা একই সঙ্গে ক্লড-এর একাধিক সেশন বা ‘ইনস্ট্যান্স’ চালনা করে কোডিং, গবেষণা ও কারিগরি পর্যালোচনার মতো কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। প্রতিবেদনে সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটি জানায়, ব্যবহারকারীদের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি গবেষণামূলক অনুসন্ধান বা স্রেফ তথ্য সংগ্রহের গণ্ডি পেরিয়ে অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় সরাসরি জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞ দলের স্থলাভিষিক্ত এআই এজেন্ট

ইয়েমেনভিত্তিক এই ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধাপে ক্লড কোড ব্যবহার করে। তাদের প্রকল্পের মধ্যে ছিল–ট্যাকটিক্যাল গাইডেড রকেটের জন্য নেভিগেশন সফটওয়্যার, ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘আর২০০০’ নামের একটি হাইপারসনিক গ্লাইড যান তৈরি।

একটি মাত্র মডেলকে ধারাবাহিকভাবে কাজ দেয়ার পরিবর্তে তারা একাধিক সেশন সমান্তরালভাবে পরিচালনা করে। একটি ইনস্ট্যান্স কোড লেখার কাজ করলে অন্যটি পরিচালনা করছিল গবেষণা। তৃতীয় আরেকটি সেশন প্রথম দুটির আউটপুট পর্যালোচনা করে দেয়।

এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ছোট দল মিলে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।

ফ্লাইট কম্পিউটার থেকে ট্রাজেক্টোরি সিমুলেশন

তাদের এই কারিগরি কাজ নেভিগেশন, ফ্লাইট কন্ট্রোল এবং সিমুলেশন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তারা একটি স্মার্টফোন-মানের ফ্লাইট কম্পিউটারের সঙ্গে ওপেন-সোর্স অটোলাইন সফটওয়্যার যুক্ত করার চেষ্টা করে। এর নেভিগেশন ও কন্ট্রোল কোড লিখতে ক্লড-কে ব্যবহার করে তারা।

এ ছাড়া শূন্যে কোনো বস্তুর গতিপথ ও ঘূর্ণন নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে তারা ‘সিক্স-ডিগ্রি-অফ-ফ্রিডম ট্রাজেক্টোরি সিমুলেশন’ তৈরি করে। একই সঙ্গে ফ্লাইট-কন্ট্রোল অ্যালগরিদম উন্নত করতে তারা ‘রেইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’-এরও সহায়তা নেয়।

চূড়ান্ত পর্যায়ে সমগ্র প্রকল্পটি অফলাইনে চালানোর উপযোগী একটি স্বাধীন এক্সিকিউটেবল ফাইল আকারে রূপান্তর করে ব্যবহারকারীরা। এর অর্থ ছিল ক্লড-এ সরাসরি সংযোগ না থাকলেও তারা তাদের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম।

রকেট পরীক্ষা ও এআই দিয়ে ব্যর্থতার বিশ্লেষণ

পরিকল্পনাটি শুধু সফটওয়্যার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অ্যানথ্রোপিকের তথ্য অনুযায়ী, দলটি ইয়েমেনে একটি গাইডেড রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করে। তবে এই পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উৎক্ষেপণের ব্যর্থতার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহারকারীরা পুনরায় ক্লড-এর শরণাপন্ন হয় এবং উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত ‘টেলিমেট্রি ডেটা’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে লেগে পড়ে।

সফটওয়্যার তৈরি, সরাসরি পরীক্ষা এবং দ্রুত পরীক্ষা-পরবর্তী মূল্যায়নের এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে প্রমাণ হয়, বিচ্ছিন্ন কোনো কারিগরি প্রশ্নের উত্তরের জন্য নয়, বরং এআই মডেলটিকে সরাসরি একটি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ার ভেতর যুক্ত করা হয়েছিল।

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, ওই দলটি কোনও কার্যকর বা ব্যবহারের উপযোগী অস্ত্র তৈরিতে সফল হয়েছে—এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস বন্ধ করার আগেই তারা একটি অফলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং টুলকিট তৈরি করে ফেলেছিল, যা আর ক্লড-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল না।