ই-পেপার

অস্ট্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক ইসলাম ছড়িয়ে পড়ায়’ মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধের উদ্যোগ

অস্ট্রিয়ার ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবার বিষয়ক ফেডারেল

আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৩
১৫ ভিউ
অস্ট্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক ইসলাম ছড়িয়ে পড়ায়’ মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধের উদ্যোগ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : অস্ট্রিয়ার ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবার বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার শনিবার মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আরও কয়েকটি সংগঠনকে সেদেশের সংবিধানে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের আওতায় অস্ট্রিয়ার অফিশিয়ালি স্বীকৃত বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন 'ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া'ও (আইজিজিও) চলে আসতে পারে। একই সাথে ধর্মীয় নেতাদের চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ প্রতিরোধে অস্ট্রিয়া সরকারের উদ্বেগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে 'অস্ট্রিয়ান প্রেস এজেন্সি'-কে জানান মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার। আইজিজিও-এর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাউয়ার বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না আমরা একে আওতামুক্ত রাখতে পারি। রাজনৈতিক ইসলামের সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো—এটি এমনকি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও সূক্ষ্মভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।’’

বাউয়ার মুসলিম সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘চরমপন্থার সীমারেখা কোথায়—সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। অতীতে উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমি বলতে গেলে দেখিনি।’’ তিনি নিশ্চিত করেন যে, অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির (ওভিপি) কোয়ালিশন অংশীদারদের কাছে খুব শীঘ্রই এই সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক খসড়া জমা দেওয়া হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ-কে বলেন, ‘রাজনৈতিক বা উগ্র ইসলামের’ নামে চরমপন্থা ছড়ানোর রাশ টেনে ধরতে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ চায়। মন্ত্রী বাউয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্য ভিয়েনার সেই কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।

তবে মন্ত্রী বাউয়ারের এই বক্তব্য ও অবস্থানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আইজিজিও-এর চেয়ারম্যান উমিত ভুরাল। তিনি জানান, আইনগতভাবে স্বীকৃত এই সংস্থাটি সবসময় অস্ট্রিয়া সরকারের এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।

ভুরাল বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে বারবার বিতর্ক তুলে অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে বরং আমাদের এই পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা উচিত।’’ মন্ত্রীকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে ক্লডিয়া বাউয়ারের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে সংলাপে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন—বর্তমানে তার অভাব দেখা যাচ্ছে।’’ যেকোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে কোন কোন চরমপন্থী আচরণ বা কাঠামোকে নিশানা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।