ই-পেপার

তৃষাকে দেওয়া বিজয়ের ‘স্যালুট’ ঘিরে তুমুল বিতর্ক

অভিনেতা থেকে রাজনীতির মাঠে পা রেখে তামিলনাড়ুর

আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪১
১২ ভিউ
তৃষাকে দেওয়া বিজয়ের ‘স্যালুট’ ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

বিনোদন ডেস্ক : অভিনেতা থেকে রাজনীতির মাঠে পা রেখে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন সি জোসেফ বিজয়। ভক্তদের কাছে যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত।

তবে রাজনীতিতে আসার পরও তাকে ঘিরে বিতর্কের কমতি নেই। বিশেষ করে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন রয়েছে।

এবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষার কথিত স্যালুট বিনিময়কে কেন্দ্র করে নতুন করে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে বিজয়-তৃষার নাম।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের এটিই ছিল প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃষা।

হলুদ শাড়ি ও সবুজ ব্লাউজে অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসেছিলেন তৃষা। তার পাশে ছিলেন বিজয়ের বাবা এস চন্দ্রশেখর ও মা শোভা চন্দ্রশেখর।

বিজয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সময় সামনের সারির অতিথিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তৃষা উঠে দাঁড়িয়ে তাকে স্যালুট জানান। প্রত্যুত্তরে বিজয়ও তৃষাকে স্যালুট করেন।

যদিও এটিকে সরাসরি ‘স্যালুট বিনিময়’ বলা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ তৃষার আশপাশে থাকা বিজয়ের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরাও তখন মুখ্যমন্ত্রীকে স্যালুট জানাচ্ছিলেন।

কিন্তু সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ফের আলোচনায় আসে বিজয়-তৃষার সম্পর্কের পুরনো গুঞ্জন।

ঘটনাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল ডিএমকের দলীয় মুখপত্র ‘মুরাসোলি’। এক সম্পাদকীয়তে ঘটনাটিকে ‘লজ্জাজনক দৃশ্য’ ও ‘অশ্লীলতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো সরকারি পদ বা আনুষ্ঠানিক প্রটোকল না থাকা সত্ত্বেও কেন একজন অভিনেত্রীকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রীর মা-বাবার পাশে বসানো হলো এবং কেন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও ওই অভিনেত্রীর মধ্যে এমন দৃশ্য দেখা গেল।

অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ না করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনকারী মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মর্যাদা ধুলোয় মিশে গেছে। এমনকি যারা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তারাও কোনো লজ্জা বা সংকোচ ছাড়া একজন অভিনেত্রীকে সামনের সারিতে বসানো এবং দুজনের একে অপরকে স্যালুট করার এই দৃশ্য সহ্য করতে পারছেন না। এমন একজন ব্যক্তি, যিনি মনে করেন এই ধরনের অশ্লীলতা ও কুৎসিত বিষয়কে প্রকাশ্যে ও নির্লজ্জভাবে করে ন্যায্যতা দেওয়া যায়, তিনিই আজ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।’

সম্পাদকীয়তে আরো দাবি করা হয়েছে, ‘এমনকি বিজয়ের ভক্তরাও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একজন অভিনেত্রীকে নিয়ে আসা এবং তাকে স্যালুট করা মেনে নিতে পারছেন না।’

তবে এখন পর্যন্ত এই সমালোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে।

বিজয়-তৃষাকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতে কাবেরী নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে বিজয় সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাঞ্জাভুরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ডিএমকে। সেখানে বিরোধী দলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডিএমকে সমর্থকদের একাংশ ‘তৃষা, তৃষা’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

তখন বক্তব্য থামিয়ে মুচকি হেসে উদয়নিধি বলেছিলেন, ‘অন্য কোথাও পানি পৌঁছাক আর না পৌঁছাক, ওইখানে যেন পানি ঠিকমতো পৌঁছায়।’

তৃষার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও উদয়নিধির এই দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনা হয়। পরদিন তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় চার ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়।

বলা দরকার, বিজয়ের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বহু নায়িকার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি। তবে তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন বরাবরই আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০০৪ সালের ব্লকবাস্টার তামিল সিনেমা ‘গিল্লি’-তে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। সিনেমাটি ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর তামিল চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অনস্ক্রিন জুটি হিসেবে পরিচিতি পান বিজয়-তৃষা।

এরপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। প্রায় ১৪ বছর পর ২০২৩ সালে লোকেশ কানাগারাজের ‘লিও’ সিনেমায় আবার একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। সিনেমার শুটিং ও প্রচারণার সময় থেকেই তাদের অফস্ক্রিন সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও বিজয় কিংবা তৃষা কেউই কখনো প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। বরাবরই নিজেদের ভালো বন্ধু বলে দাবি করেছেন দুজন।

এদিকে ২০২৬ সালের শুরুতে বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সেই আবেদনে বিজয়ের এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগের উল্লেখ ছিল বলেও দাবি করা হয়। যদিও কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সেই অভিযোগকে তৃষার সঙ্গে যুক্ত করেন। পরে অবশ্য সঙ্গীতা ওই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।

এর আগেও গত ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তৃষা কৃষ্ণানের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা হয়েছিল