অনলাইন ডেস্ক : তিন মাসেরও বেশি সময় পর আবারও বন্দি বিনিময় করেছে চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধে লিপ্ত ইউক্রেন ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার উভয় দেশই ১৫৭ জন করে বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সাধারণ নাগরিকরাও রয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনার দ্বিতীয় দিনে বন্দি বিনিময়ের এই ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ভেতরে ড্রোন হামলার জন্য রাশিয়া যে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করছিল, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই পরিসংখ্যানের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এর আগে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তখন তিনি নিহতের সংখ্যা ৪৩ হাজার বলে জানিয়েছিলেন।
ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা, পেশাদার কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তসহ ৫৫ হাজার।
জেলেনস্কির দেওয়া সরকারি নিহতের সংখ্যা ইউক্রেনের মোট ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ব্যাপক কম। তিনি বলেছেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত। ছয় মাস আগে পর্যন্ত ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। তবে তাদের মধ্যে কারা সেনা আর কারা বেসামরিক সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি।






