অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) পাঠাতে নগদ লেনদেনে প্রতি ১০০ ডলারে অতিরিক্ত ১ ডলার কর চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকরের ঘোষণা আগেই ছিল। এবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দেওয়ার ঘোষণা এল।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাও বন্ডের শর্তে যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের রেমিট্যান্স, ভিসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ বাংলাদেশের জন্য নতুন করে চাপ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত কর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক পথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে পারে। আর ‘ভিসা বন্ড’ হিসেবে জামানত বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করবে।

তবে সাবেক এবং বর্তমান কূটনীতিকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপগুলোকে ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তা আকস্মিক নয়। কারণ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় তিনি বিভিন্ন দেশের লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া কমানোসহ অভিবাসনের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার কথা বারবার বলেছেন। ফলে এগুলোকে তাঁর পূর্বঘোষিত নীতির বাস্তবায়নের আলোকেই দেখা সমীচীন।

শুরুতে গত বছরের আগস্টে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরও সাতটি দেশের নাম এই তালিকায় তোলে। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যোগ করল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।

শুরুতে গত বছরের আগস্টে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরও সাতটি দেশের নাম এই তালিকায় তোলে। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যোগ করল যুক্তরাষ্ট্র।