অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতির মূল খাতগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যেমন– বিমান চলাচল, পর্যটন, আবাসন ইত্যাদি। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে যে অর্থনৈতিক মডেল গড়ে উঠেছিল, তার দুর্বলতা ফুটে উঠছে।
গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে ১২০ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে বাতিল হয়েছে ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট। যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপে আছে দুবাইয়ের শেয়ারবাজার। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বাজারের সূচক কমেছে ১৬ শতাংশ, আবুধাবির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। এ অবস্থায় আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দুবাইয়ের উত্তরাধিকারী যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এমন উদ্যোগে অর্থনীতির আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। আরব আমিরাতের অর্থনীতি নিছক তেলনির্ভর ছিল না। পর্যটন, আবাসন, লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা–এমন বহুধা ধারায় বিভক্ত তাদের অর্থনীতি। স্বাভাবিকভাবে এই যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের অর্থনীতি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, আরব দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে খরচ বহন করতে আহ্বান জানাতে পারেন ট্রাম্প। এই যুদ্ধের খরচ কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।
১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে অর্থায়ন করেছিল। এবার তেমন হবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের মুখপাত্র হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গতকাল সোমবার বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যার জন্য প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট আগ্রহী। তিনি তাদের আহ্বান জানাতে চাইবেন।’ খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।
