অনলাইন ডেস্ক : তিন অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ছেড়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের অভিযোগ তিনটির বিষয়ে ইসি থেকে আশ্বস্ত হয়েছি। আমরা আরও আশ্বস্ত হতে চাই। তারা আমাদেরকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন আমরা আজকের মতো কর্মসূচি এখানে স্থগিত করি। সেজন্য ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আমরা সাময়িকভাবে এই কর্মসূচি এখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করছি।
ছাত্রদল সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আবারও কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী কিংবা কোনো ছাত্র সংগঠন এখানে প্রবেশ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা চালায়, কিংবা নির্বাচন চলাকালীন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে এদেরকে বাধ্য করে, তাহলে ছাত্রদল কী করতে পারে তা দুই দিনে দেখিয়েছে। আমাদেরকে বাধ্য করবেন না, আমাদের হুমকি দেবেন না। আপনাদের যা করার করেন, আমাদের কাজ আমরা করব।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবে। আমরা সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকব, যাদের কারণে আমাদের এই দুই দিন এখানে অবস্থান করতে হলো। যদি সে ধরনের কোনো প্রচেষ্টা আবারও চালানো হয়, আমরা আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বলে দিচ্ছি- আবারও যদি কোনো ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্ত আসে, তবে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কর্মসূচি নিয়ে হাজির হব।
ছাত্রদলের অভিযোগ তিনটি হলো-
১. পোস্টাল ব্যালট-সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
