Home আন্তর্জাতিক চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বরফ গলছে

চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বরফ গলছে

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ আট বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘রিসেট’ বা নতুন শুরুর লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন।

বৈঠকের শুরুতে স্টারমার বলেন, চীন বিশ্বমঞ্চে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তিনি দুই দেশের মধ্যে আরও ‘উন্নত ও শক্তিশালী’ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেখানে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে সেখানে ব্রিটেন একসঙ্গে কাজ করবে, আবার যেখানে দ্বিমত রয়েছে সেখানে সরাসরি ও অর্থপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাবে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে অনেক ‘উত্থান-পতন’ দেখা গেছে, যা কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক ছিল না। তিনি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বেইজিংয়ের প্রস্তুতির কথা জানান এবং মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অর্জন: এই সফরে স্টারমারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৫০টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল রয়েছে। বৈঠকের পর স্টারমার সাংবাদিকদের জানান, ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর আমদানিতে শুল্ক কমানো ও ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য চীনে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে মানুষ পাচারকারী চক্র দমনে ব্রিটেন ও চীন যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। বিশেষ করে পাচারের কাজে ব্যবহৃত চীনা ইঞ্জিনের সরবরাহ বন্ধে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।

সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা থাকলেও স্টারমার হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী নেতা ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের কারাদ-ের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মানবাধিকার এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা ও শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কায় ব্রিটেন ও চীন উভয়ই তাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে চাইছে। এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং ও লন্ডনের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র : রয়টার্স।

Exit mobile version