অনলাইন ডেস্ক : দুই বছরের বেশি সময় পর সৌদি আরব সফরে গিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রিয়াদে পৌঁছান তুরস্কের এই নেতা। বিশ্লেষকরা এই সফরকে রিয়াদ-আঙ্কারার সম্পর্কে উষ্ণতার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরে তুরস্ক ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য সৌদি আরবের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে বলে প্রত্যাশা করছে আঙ্কারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দুই পক্ষ তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও পেট্রোকেমিকেল খাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি খাতে সৌদি আরবের বড় বিনিয়োগের ফায়দা নিয়ে বিদ্যুৎ ও টেকসই জ্বালানি খাতেও একে অপরকে সহায়তা দিতে চায় দুই দেশ।’
২০১১ সালে ‘আরব গ্রীষ্মের’ পর সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে নীতিগত বিভেদ দেখা দেয়।
২০১৮ সালে তুরস্কের মাটিতে প্রবাসী সৌদি সাংবাদিক খাসোগি নিহত হন। ইস্তানবুলের সৌদি দূতাবাসে ‘এজেন্টদের’ গুলির আঘাতে প্রাণ হারান তিনি। ওই এজেন্টরা সৌদি যুবরাজের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগ আনে আঙ্কারা। এ বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারা-রিয়াদের সম্পর্কের বরফ গলছে। দুই দেশই গাজার প্রতি সমর্থন যুগিয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে সিরিয়ার শাসক বাশার আল-আসাদের উৎখাত ও পরবর্তীতে নতুন সরকারের প্রতিও উভয় দেশ যুগপৎ সমর্থন জানায়।
চলতি সফরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন এরদোয়ান। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ রিয়াদ সফর করেন তুরস্কের নেতা।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলু নিউজ জানিয়েছে, বুধবার রিয়াদ থেকে কায়রোর উদ্দেশে রওনা হবেন এরদোয়ান।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন এক আরব কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই বৈঠকের আগে এরদোয়ানের সৌদি সফর বেশ অর্থবহ।
বিবদমান দুই পক্ষের মতভেদ দূর করতে বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এরদোয়ানকে দেখা যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন।
