Home কানাডা খবর খুদে ফুটবলারদের পদচারণায় মুখরিত ডন মন্টগোমারী কমিউনিটি সেন্টার

খুদে ফুটবলারদের পদচারণায় মুখরিত ডন মন্টগোমারী কমিউনিটি সেন্টার

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সব ক্ষুদে ফুটবলার

ফয়েজ নুর ময়না : নিঃসন্দেহে পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের সবচেয়ে প্রিয় খেলার নাম ফুটবল (সকার)। এক অসম্ভব গতি আর ক্ষিপ্রতার সাথে সাথে ফুটবল একজনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তবে ফুটবলের চর্চার সুফল পেতে হলে একজনকে একেবারে বালক বয়স থেকে এর সাথে পরিচিত হলে ভালো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা স্কুলে যাওয়ার শুরু থেকে ফুটবল খেলার সাথে জড়িত থাকে, তারা পরবর্তীতে তাদের চরিত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক গুণ অর্জন করে এবং সেই সব গুণের সমন্বয় ঘটিয়ে সমাজে সফল মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তারা অন্যদের চেয়ে বেশি নিয়মানুবর্তী হয়, তারা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা অর্জন করে, রোগের প্রকোপ থেকে দূরে থাকে আর নিজেদেরকে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের দিকে নিয়ে যায়।

টরন্টোর এগলিন্টন এভিনিউ ইস্টের ডন মন্টগোমারী কমিউনিটি সেন্টারে নতুন প্রজন্মকে ফুটবলে সুশিক্ষিত এবং দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমী বাবা-মা আর তাদের সন্তানদের দৃষ্টি কেড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে ৮ থেকে ১৬ বছরের ছেলেমেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণ নেবার আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। গত জুলাই মাসে মাত্র ১২ জন্য নিয়ে শুরু করা এই প্রশিক্ষণে এখন সদস্য সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। গ্রীষ্মের সময় প্রতি বুধবার এবং শুক্রবার ফার্মেসী এভিনিউ’এ বিং পার্ক এবং কমিউনিটি সেন্টারের মাঠে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ হলেও ২৩শে অক্টোবর থেকে সপ্তাহের প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেন্টারের ইনডোরের এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণে প্রধানতম যে সব বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে, সকার স্কিল, সকার টিম ওয়ার্ক, ফিটনেস, মোবিলিটি, ফুটওয়ার্ক, বল পাসিং এবং বল শুটিংয়ের যাবতীয় বিষয়।

ডন মন্টগোমারী কমিউনিটি রিক্রিয়েশান সেন্টার

এ প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্যেক্তা এবং প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ১০ বছরের কানাডীয় অভিজ্ঞতাসহ মোট ২০ বছরের ফুটবল খেলায়, শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কানাডিয়ান ও আমিরিকান সার্টিফাইড কোচ মোহাম্মদ হাকিম। তিনি বর্তমানে কাজ করছেন টরন্টোর বিভিন্ন সকার ক্লাবের প্রশিক্ষক হিসাবে। মোহাম্মদ হাকিম বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফুটবল দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক ফুটবলার।

প্রশিক্ষক মোহাম্মদ হাকিম

ছোট ছেলেমেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জনাব হাকিমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ফুটবল প্রেম তাঁর ধমনীতে। সেই ছোট বেলা থেকে ফুটবল যেভাবে তাঁর দেহমনে বাসা বেঁধেছে, সেটা তিনি কখনো ছাড়তে পারেননি, এবং পারবেনও না। বাংলাদেশে থাকতে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেছেন। তাঁর এই যাত্রাই তিনি দীর্ঘদিন অধ্যবসায় করেছেন এবং সেই সাথে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন নামীদামী অনেক দেশী বিদেশী ফুটবল কোচের কাছে। তা ছাড়া তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ঋদ্ধ করেছেন ফুটবলের নানা কলাকৌশল সম্পর্কে। তিনি মনে করেন, ফুটবল তাঁকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিয়েছে।

প্রশিক্ষণ সেশন

মোহাম্মদ হাকিম আরও বলেন, ফুটবল খেলা একজন শিশুকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে এবং জীবনের নানা সমস্যার সুন্দর সমাধানের দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতা করে। তাঁর মতে, যেহেতু তিনি তাঁর সারাজীবনে ফুটবলের নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেহেতু তাঁর পক্ষে নতুন প্রজন্মকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা সম্ভব। তিনি আশাবাদী, দিন দিন যেভাবে নতুন নতুন সদস্য তাঁর প্রশিক্ষণে এসে যোগ দিচ্ছে, তাতে আগামীতে কমিউনিটির ছেলেমেয়েরা নিজেদের পড়াশুনা এবং অন্যান্য কাজের সাথে সাথে ফুটবল খেলা এবং চর্চার জন্য সময় বের করে নিবে। তিনি মনে করেন, কানাডায় যেহেতু খেলার মাঠের অভাব নেই, সে কারণে, ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে ফুটবল প্রেম জাগিয়ে দিতে পারলে, মাঠগুলো মুখরিত হবে ফুটবলারদের পদচারণায়। সেই সাথে তিনি স্বপ্ন দেখেন, কমিউনিটির এই ছেলেমেয়েদের মধ্যে থেকেই আগামীতে কানাডার জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে।

প্রশিক্ষণ সেশন

এই পদক্ষেপের শুরুর কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ হাকিম বলেন, ‘কানাডা প্রবাস জীবনে সব সময় মনে হতো কিভাবে কমিউনিটিতে সহযোগিতা করা যায়। ২০১০ সালে প্রথম এই দেশে আসার পর আমার একমাত্র ছেলে আয়ানকে কোনভাবেই স্কুল ফুটবলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি নাই, এজন্য আমার সময় অর্থ প্রয়োজন ছিল বেশি। এই চিন্তাতেই অন্যান্য ফুটবলার ময়না ভাই, মিজান ভাই, মামুন সরদার ভাই এর অনুপ্রেরণায় ছোট ভাই সুমন ও বন্ধু নাজিম এর সহযোগিতায় ২০২১ এর জুলাই মাসে ‘সকার ফর লাইফ’ নামে একটি ফুটবল প্রশিক্ষণ একাডেমি শুরু করি মূলত মূলত ৮ থেকে ১৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের নিয়ে। এই ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু হয় প্রথমত বিভিন্ন মাঠে। আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। পরবর্তীতে প্রথমত দশ-বারোজন ছাত্র দিয়ে শুরু করি। পরবর্তীতে এই সংখ্যা বেড়ে যায়। একাডেমি পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। বিশেষ করে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা, নাজিম মাসুদ, ফয়েজ নুর ময়না এবং জেসমিন রহমান যিনি সকল ধরনের প্রশাসনিক কাজ এবং সিটির সাথে মাঠ বরাদ্ধ নিয়ে যোগাযোগ করছেন। এই আকাদেমির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো আগামী ২০২২ সালে অল্প মাসিক ফি দিয়ে শিশু-কিশোরদের বছরব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং এখান থেকে যারা ভাল করবে, তাদেরকে কোচিং সার্টিফিকেট পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা।’

শীতের সময় সেন্টারের ইনডোরে প্রশিক্ষণের জায়গা

মোহাম্মদ হাকিম বাঙালি কমিউনিটির ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শুরু করলেও অন্যান্য কমিউনিটির ছেলেমেয়েরাও ইতোমধ্যে যোগ দিতে শুরু করেছে। প্রশিক্ষণের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সদস্যদের কাছে খুবই সামান্য ফি নেয়া হয়।

যারা প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী তারা যোগাযোগ করতে পারেন; ডন মন্টগোমারী কমিউনিটি সেন্টার, ২৪৬৭ এগলিন্টন এভিনিউ ইস্ট। ফোন: ৪৩৭-২৪৫-৪০০৭ এবং ই-মেইল: hakimisd@gmail.com

Exit mobile version