Home আন্তর্জাতিক জর্দানে অভ্যুত্থান চেষ্টা: সৌদি উপদেষ্টাকে কারাদণ্ড

জর্দানে অভ্যুত্থান চেষ্টা: সৌদি উপদেষ্টাকে কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক : জর্দানে বাদশাহ আব্দুল্লাহকে সরিয়ে তার সৎ ভাই সাবেক ক্রাউন প্রিন্স হামজাকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টার অভিযোগে রাজ পরিবারের সাবেক উপদেষ্টা বাসিম আওয়াদাল্লাহ ও এক অপ্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির এক সামরিক আদালত। সৌদি ও মার্কিন যৌথ নাগরিক আওয়াদাল্লাহ সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছিলেন। সোমবার জর্দানের আদালত রাষ্ট্রদ্রোহের চেষ্টার অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।
খবরে বলা হয়, আওয়াদাল্লাহ ও বাদশাহর দূর-সম্পর্কীয় ভাই শরিফ হাসান বিন জাইদকে গত এপ্রিলে প্রিন্স হামজার সঙ্গে মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে আটক করা হয়।
সোমবার সামরিক আদালতের বিচারক বলেন, এই দুই আসামী দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে। তারা দেশটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের চেষ্টা চালিয়েছে।
আওয়াদাল্লাহ জর্দানের সাবেক অর্থমন্ত্রী। দেশটির উদারপন্থি অর্থনৈতিক সংস্কারের পেছনে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। জর্দানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে তার। পড়াশোনাও শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

বাদশাহর সঙ্গে বহু বছর ধরে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে ২০০৮ সালে তার মুক্ত বাজার ঘরানার সংস্কারের বিরোধিতা করে প্রভাবশালী আদিবাসি ও প্রাচীন ধারার রাজনৈতিক নেতারা। তাদের চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় তাকে। রাজ আদালতের প্রধান হিসেবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরানো বিক্ষিপ্ত আওয়াদাল্লাহকে কারাগারের নীল পোশাক পরিয়ে আদালতে প্রবেশ করছে জর্দানের এলিট সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সদস্যরা।
সোমবার সামরিক আদালতের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আওয়াদাল্লাহ। তার আইনজীবী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর মাইক্যাল সুলিভান জানান, বিচার সুষ্ঠু হয়নি। এতে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়নি।
তিনি জানান, এই কথিত বিচার পরিচালনা করেছেন একটি গোপন সামরিক আদালত। সেখানে তাকে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত প্রমাণগুলো খণ্ডন করতে দেওয়া হয়নি, কোনো সাক্ষী ডাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সুলিভান বলেন, এই বিচারকার্যের প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। আওয়াদাল্লহর সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
আওয়াদাল্লহর পরিবারও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। বলেছে, জোরপূর্বকভাবে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তবে জর্দানের রাষ্ট্রপক্ষীয় আইনজীবীরা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি প্রিন্স হামজাকে। বাদশাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে তাকে গৃহবন্দি করা রাখা হয়েছে।
সোমবার সামরিক আদালত, অনলাইনে বিনিময় হওয়া গোপন বার্তার প্রেক্ষিতে আওয়াদাল্লাহ ও জাইদকে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুসারে, হামজাকে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন টুইট করায় পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন আওয়াদাল্লাহ।

Exit mobile version