Home কানাডা খবর টরন্টোতে পুলিশি অভিযানে বন্দুক নির্মাতা রজার নিহত : অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই...

টরন্টোতে পুলিশি অভিযানে বন্দুক নির্মাতা রজার নিহত : অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই পরিবারের কাছে

অনলাইন ডেস্ক : টরন্টো পুলিশের অভিযানে গত ৩ নভেম্বর নিহত হয়েছেন কানাডার বিখ্যাত বন্দুক নির্মাতা রজার (৭০)। কিন্তু কেন তাকে এভাবে গুলি করে মারা হল, কী তার অপরাধ, কিংবা তার বিরুদ্ধে কোন ওয়ারেন্ট ছিল কি-না এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছে না রজারের পরিবার।

রজারের ভাই জেফরি কোটানকো বলেন, গত ১৪ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই দুই ভাইয়ের দেখা সাক্ষাত হতো। অন্টারিওর দক্ষিণাঞ্চলে লেক এরির কাছে নোরফোক কাউন্ট্রিতে তাদের বাসা। দুই ভাইয়ের বাসার দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের পথ। ৩ নভেম্বর দুই ভাই একসাথে লেকে মাছ ধরার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। রজারের স্ত্রী জেসির একটি ফোন কলে সব ওলট-পালট হয়ে যায়। জেফরি বলেন, ওই দিন বিকেলে তার ভাইয়ের স্ত্রী জেসি তাকে ফোন করে জানান, তাদের বাড়ির কাছে একদল বন্দুকধারী গোলাগুলি করেছে। রজার গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জেফরি আরো বলেন, রজারের বাড়ির কাছে গুলির শব্দ নতুন কিছু নয়। কেননা সে একজন বিশ্ববিখ্যাত বন্দুক নির্মাতা। বন্দুকের কারিগর হিসেবে কানাডা জুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে আছে। স্থানীয় পুলিশ অফিসাররাও মাঝে মধ্যেই তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র মেরামত করাতে আসতো। কিন্তু এবার রজার নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে শুনে জেফরি দ্রæত ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এসে দেখেন পোর্ট রেয়ার রোডে বাড়ির কাছে ওয়ার্কংশপে রজারের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ তা তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার দুই সপ্তাহ পরেও রজারকে কেন গুলি করা হলো তার কারণ জানা যায়নি। অনেক প্রশ্নের উত্তরই মেলাতে পারছেনা রজারের পরিবার। অন্টারিও পুলিশের তদন্ত সংস্থা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (এস আই ইউ) তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থের দোহাই দিয়ে তারা বিস্তারিত কিছুই বলছে না।

টরন্টো পুলিশ সার্ভিস বলছে, ওই দিন বিকেলে তারা রজারের ওয়ার্কশপে তল্লাশির জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন ধরণের তথ্যের ভিত্তিতে তারা সেখানে তল্লাশি চালিয়েছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ যদিও বলছে, অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে তারা সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু রজারের পরিবার বলছে পুলিশ কোন সার্চ ওয়ারেন্ট দেখায় নি। এছাড়া রজারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা মামলাও ছিল না।

পত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা দিতে গিয়ে রজারের দীর্ঘদিনের বন্ধু কুইন্টন ডিক্সন বলেন, জেসি গাড়ি থেকে মালামাল নামাচ্ছিল, আর রজার তার ওয়ার্কশপে কাজে ব্যাস্ত ছিল। এমন সময় পুলিশের দল এসে জেসিকে অস্ত্রের মুখে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখে। আর কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরেই তারা বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সে করেই লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিক্সন আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদের কয়েকজন পোশাক পরা থাকলেও কয়েকজন ছিলেন সাদা পোশাকে। তারা যখন ওয়ার্কশপে প্রবেশ করে তখন রজার একজন কাস্টমারের সাথে কথা বলছিল। সেখানে ঢুকেই তারা গুলি শুরু করে। রজারের প্রতিবেশি ফ্রেশার প্রিঙ্গল বলেন, তিনি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনে বের হয়ে আসেন। এসে দেখেন পুলিশ রজারের গুলিবিদ্ধ দেহ গাড়িতে তুলছে, আর তার স্ত্রী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন।

ঘটনার ২০ মিনিট পর অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এস আই ইউ বলেছে, পত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা রেকর্ড করা হচ্ছে, মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে।

এদিকে রজারদের পারিবারিক আইনজীবী ইসমিটিউচ অভিযোগ করেছেন, তদন্তসহ পুরো ঘটনায় তাদেরকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। রজারের ফোন সেটটি পুলিশ জব্দ করে রেখেছে। ঘটনার সময় ওয়ার্কশপে যে কাস্টমার ছিল তার বিষয়ে কিছু জানাচ্ছে না পুলিশ। মোট কথা আমরা কোন প্রশ্নেরই সঠিক জবাব পাচ্ছি না।

রজার ২০১২ সালে জেসিকে বিয়ে করেন। এটি তার ৩য় বিয়ে। তার আগের দুই স্ত্রীর ঘরে ২ ছেলে ও এক মেয়ে আছে। জেফরি বলেছেন, তারা এই ঘটনায় কোন ক্ষতিপূরণ চান না, তারা চান ন্যায় বিচার এবং সঠিক জবাবদিহীতা। সূত্র : সিবিসি

Exit mobile version