Home আন্তর্জাতিক ট্রাম্পের হুংকার বনাম ইরানের সহনশীলতা: অতীত শিক্ষা থেকে পা ফেলছে তেহরান

ট্রাম্পের হুংকার বনাম ইরানের সহনশীলতা: অতীত শিক্ষা থেকে পা ফেলছে তেহরান

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইরান সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা) সময়সীমা ক্রমশ ঘনিয়ে এলেও ওয়াশিংটনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না ইরান। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, তেহরানের শাসকরা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি বা কষ্ট সহ্য করার মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার অনেক আগেই ইরান হিসাব কষেছিল যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। বর্তমানে সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর অবস্থানে পৌঁছেছে।

তেহরানের এই অনড় অবস্থানের পেছনে কাজ করছে বিগত কয়েক দশকের যুদ্ধের ইতিহাস। ১৯৯৯ সালে কসোভোতে ন্যাটোর হামলা, ১৯৯১ ও ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ কিংবা ২০০৬ সালে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার উদাহরণগুলো ইরান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা বিশ্বাস করে, অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা চালিয়ে সামরিক অগ্রযাত্রাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করা গেলেও রাতারাতি কোনো যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। ইরানের কাছে এই আক্রমণগুলো বড় ধরনের সংকটের চেয়ে বরং একটি ‘বিরক্তি’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা তাদের মনোবল ভাঙার জন্য যথেষ্ট নয়।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বেশ কয়েকবার ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েও তা পিছিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে কেউ কেউ বিশ্বকে ‘শক্তির শাসন’ বা জোর যার মুলুক তার—এমন কঠোর নিয়মে পরিচালনার কথা বললেও, ইরান আবারও নিজের সহনশীলতার পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আসলে মার্কিনিদের দেওয়া সময়সীমা বা হুমকির তোয়াক্কা না করে নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা রাখছে এবং বড় কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে আরও বেশি চাপে ফেলার কৌশল অবলম্বন করছে। ট্রাম্পের এই সর্বশেষ ডেডলাইন পার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সূত্র: সিএনএন

Exit mobile version