অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর দুই সপ্তাহের জন্য আক্রমণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটে উদ্ভূত মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধাতব মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮১১ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও যেকোনো সময় স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগামী জুন মাসে সরবরাহ করা হবে এমন গোল্ড ফিউচারের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৮৪০ দশমিক ২০ ডলারে অবস্থান করছে। স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং-এর মতে, স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ডলার এবং রুপার ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ৮১ ডলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে কাজ করবে।
ট্রাম্পের হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফার একটি শান্তি প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে যে, এই আলোচনার অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলতে পারে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ডালাসের গবেষণা অনুযায়ী, তেলের বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাঘাত ঘটলে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল, তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থান বাজারকে পুনরায় চাঙ্গা করে তুলেছে। স্বর্ণ ও রুপার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ এবং ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বাজুস সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তার সমন্বয় করা হয়। অথচ মাত্র দুই দিন আগে গত ৬ এপ্রিল বাজুস দেশে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল।
বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা এবং একই মানের রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
