অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চোখের সামনেই এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট চরম রূপ নিচ্ছে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে অবিলম্বে ওই অঞ্চলে সব ধরনের হামলা ও সংঘাত বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক ডা. হানান বালখি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধাবস্থায় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকে অবশ্যই ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. বালখি জানান, সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কল্পনাতীতভাবে ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধে লেবাননে এক হাজারের বেশি, ইরানে দেড় সহস্রাধিক এবং ইসরায়েলে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে ইরানে ৩২ লাখ ও লেবাননে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হাসপাতালগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই কর্মকর্তা পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা দুর্ঘটনাবশত হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি, পানি শোধনাগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোতে হামলা হলে তা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক চরম ‘বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন বালখি। তার আশঙ্কা, তেল বা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জেরে বৃষ্টির পানির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির উৎসগুলোও বিষাক্ত হয়ে যেতে পারে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবানন, ইরান ও ইসরায়েলে চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ইতোমধ্যে যাচাই করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত সপ্তাহে সুদানের পূর্ব দারফুরে একটি হাসপাতালে হামলায় শিশু ও চিকিৎসকসহ অন্তত ৭০ জন নিহত হন। ডা. বালখি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে মানুষ যুদ্ধের সময় হাসপাতালে আশ্রয় নিত, কারণ তারা জানত সেখানে বোমা পড়বে না। এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই।’
ডা. বালখি স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন সংঘাতের দিকে বিশ্বের নজর থাকায় গাজা, সুদান ও ইয়েমেনের চলমান নিদারুণ মানবিক সংকটগুলো এখন চরমভাবে অবহেলিত হচ্ছে।
