তুষ জ্বেলেছি মন জুড়ে

তুষ এর আগুন জ্বালিয়েছি মন জুড়ে
সে আমি নিজেকে নিজেই,
সাত জনম এর অভিশাপ আমি নিয়েছি কাঁধে
সে আমার নিজের ইচ্ছেতেই।
কষ্টের সাগরে আমি ভাসালাম আমার ভেলা,
সে তো নিজেকে নিজেই ভাসাবো বলে
সলিল সমাধিতে।
ঝলসাবো আমি হৃদয় পিঞ্জিরাকে মনের সাধ মিটিয়ে,
সে আমি যতটুকু পারি পুড়িয়ে
শেষ করতে নিজেকে।
আগ্নেয়গিরির লাভার মাঝে দিতে পারি ফেলে
আমার ভগ্ন অন্ত:করণ
আমি তবুও করবো না কারো হৃদয় হরন,
সে আমার হৃদয় রাঙাবো প্রয়োজনে রক্ত লাল।
সীতার চিতায় উঠবো না হয় যাচাই বাছাই ছাড়াই
তবুও পুড়িয়ে ছাড়বো আমি
সে ততোটা সহন না থাকুক তবু এই আমারই।
মনের অভ্যন্তর ভাগের অন্ত:স্থল করবো নিত্য দহন
যত জ্বলন জ্বলুক আমার ভিতর বাহিরে,
সে আমার শুধু একার কারণ একারই হবে!

আমায় বলে দিন

আমার জান আমায় বলে দিন
আমি কি করবো।
আমার জান, আমায় বলে দিন
কবে আপনার হবো।
আমার জান আমায় বলে দিন,
আমার জান আপনার জন্য
যায় যায় কেন?
আমার জান আমায় বলে দিন,
আমি কেন এতোটা পাগলামী করি
এই আপনার জন্য।
আমার জান আমায় বলে দিন,
আর কতকাল আমার
এই পাগলামী রোগ থাকবে!
আমার জান আমায় বলে দিন,
আমার জীবন কি এভাবেই
অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে যাবে?
আমার জান আমায় বলে দিন,
আমি কবে আপনার জীবন থেকে
একদিন হারিয়ে যাব।
আমার জান আমায় বলে দিন,
তার চেয়ে আমি কবে মরবো।
আমার জান! আমায় বলে দিন না,
আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর সত্যিই জানা থাকলে!

সুখপাখি আর দুখপাখি

সুখ নামের সুখপাখিটা
জীবন থেকে উড়ে গেল
ক্ষণিক এর সুখবেলা হয়ে।
দু:খ নামের দুখ পাখিটা
নতুন করে বাসা বাঁধলো
আমার জীবনের সাথী হয়ে।
সুখপাখি তো উড়েই যাবে,
আমি কেনো মানতে নারাজ
বলো তো তাই বলে।
দুখপাখিটা কেন থাকে
আমার সারা জীবনের সাথী হয়ে,
এই আমারই সনে সব সময়ে।
সুখ নামের সুখ পাখিটা
কেন আমায় ঘৃণা করে,
বুঝতে পারি না যে।
দু:খ নামের দুখ পাখিটা
বরাবরই আমায় ভালোবাসে
এই আমারই হয়ে।
সুখ-দুখ, হ্যাঁ তোমাদেরই বলছি
কেন আমায় নিয়েই ছিনিমিনি খেলতে হবে?
এরচেয়ে আমায় মেরে ফেলো
গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে!

অভিমানী আমি
অপেক্ষা করতে আমার
ভালো লাগে না,
সেটা তুমি কেন
কেন বুঝতে চাও না।
এরচেয়ে যখন আমি
আর থাকবো না,
তখন তুমি যেন আমার জন্য
হাহাকার কোরো না!
পথ চেয়ে থাকতে
এভাবে তোমার পানে,
আমি যে কখনোই তা চাই না।
এরচেয়ে যখন তোমার সময় হবে
তখন তুমি যেন আমায়
খুঁজতে আসবে না!
আমি বড্ড অভিমানী গো
তোমার যোগ্য নয় হয়তো,
এরচেয়ে বলে দিও
যাবো যোজন যোজন দুরে হয়তো।
পাবে না খুঁজে আমাকে
হাজার মানুষের ভিড়ে,
কোথায় নিয়ে যাবে শেষে
হয়তো নিয়তি আমাকে।
তুমি তবুও আমায় যেন
ভুল করেও চাইবে না,
তোমার ডাকে সাড়া দিতে
কখনোই আমি আর আসবো না!

ভালোবাসার মাপকাঠিতে

ভালোবাসার মাপকাঠিতে আমি যে
হেরে যাই বারে বারে মনে মনে,
তবে একথা জানি নিজ-প্রাণে
ভালোবাসি খুউব বেশি।
প্রেম-তৃষিতা হয়ে
শুধুই তোমার সনে!
ভালোবাসার মাপকাঠিতে
বিজিত হও তুমি বারে বারে,
এই আমারই প্রেম-পরীক্ষার ফলাফলে।
তবে একথা জানি
আর সাথে সাথে মানি,
এই আমারই নি:শ্বাসে আর বিশ্বাসে
তুমি ছাড়া আর কাউকে আঁকিনি
কারো কোন ছবি আমার হৃদয়তটে।
ভালোবাসার মাপকাঠিতে
বিশ্বাস রাখি বরবরই আমি,
আর তুমি আজও
সেটা মানতেই পারোনি।
এই এক জনমে বোধ করি তাই তোমায়
ভালোবেসে ভালোবেসেই
মরে যাব আমি,
অনুভবে রাখবে তো সেদিন সাঁঝের বেলা
তোমারই এই প্রণয়-পিয়াসী আমায় তুমি!
একটু সময় হলে

তোমার সাথে ঈদ করতে
মন যে খুউব চায়,
কিভাবে তা সম্ভব হবে ভেবে না পাই।
আসবে কি আমার সনে
একটু সময় হলে,
তোমার লাগি মনের মাঝে
দুরু দুরু করে।
তোমার সাথে ঈদের রাতে
খুব যে ঘুরতে ইচ্ছে করে,
যেথায় শুধু রইবো আমরা
একাকী দু’জনে।
তুমি বলবে রিকশা ছেড়ে
আমায় ঝাপটে ধরো,
পরে গেলে তোমায় ছাড়া
কেমন করে বাঁচবো।
দুষ্টু তুমি, বুঝি আমি সেটা কেন বলবে
আমার মনের কথাটাকে
এমন করে পড়বে।
আমার মনের রঙের কথা
তুমি এঁকে দিবে,
দু’জনেই আমরা হারিয়ে যাবো
অচীন কোন দেশে।
ইশশ, বলো না কেমন করে
আসবে তুমি আমার কাছে।
আমার পাশে প্রেম তরীতে চড়ি,
এ্যাই শুনছো এবার কিন্তু সত্যিই বলছি।
দিবো তবে সোহাগ করি
তোমায় আমি ভরি,
কেউ কি তাকে বলে দিবে
আমার কাছে আসতে।
দেখবো তবে, কিভাবে সে না পারে
আমায় সময় দিতে!
চলে আসো তো, আমার প্রেমাস্পদ

আপনি বললেন চলে আসো তো
আমার প্রেম,
কেন এতো অপেক্ষার
প্রহর গুনবো আমি।
আমি বললাম, আসবো কেনো আমি
কেউ কি আমায় ভালোবাসে
বলেন তো আপনি!
আপনি বললেন এবার জন্মদিনে
একা থাকবো না আমি,
কেন তুমি আমায় এদিনে
এমন রাখবে একাকী।
আমি বললাম সে কি!
তা কি আপনার জন্য
খুবই জরুরি নাকি।
কেউ কি আমায় চায়,
সেটা জানি না আজ অবধি।
প্রচন্ড ভালোবাসা কি
সেটা আমরা দু’জনই জানি,
তবুও আমরা কি, এক হতে পারছি!

আমি চাই

আমি চাই তোমার খুব হোক ভালো
তাই তো তোমাকে আমি ছাড়বো।
আমি চাই তোমাকে মুক্ত বিহঙ্গ করতে
তাই তো তোমাকে আমি চাই না
সহসাই ধরে রাখতে।
সব শুনে তুমি বললে,
কি হবে তোমার লাভ
আমাকে দিয়ে এ কঠোর মনস্তাপীয় শাস্তি ও যত চাপ।
আমি চাই তোমার মন থাকুক অন্যজনাতে
তাইতো তোমাকে মাঝে মাঝেই রাখি
সেই তেমন ভীষণ প্যারাতে।
আমি চাই তোমাকে দিতে
তোমার মতো করে বাঁচতে
তাই তো তোমাকে আমি বলি,
ভুলে যেতে আমাকে।
সব শুনে তুমি বললে,
তোমার হবে কি মনের শান্তি
আমাকে দিয়ে যত ব্যথা,
যত কষ্টে মোড়ানো সময়টি!

তোমার চোখের পাতায় শুধু – আমায় খুঁজে ফিরি

আমি স্থির চোখে চেয়ে তোমায়
খুউব সুদূর হতে শুধু দেখি,
তোমার চোখের পাতায় আমি
শুধুই আমাকে খুঁজে ফিরি।
আমি কষ্টকে চরম মূল্য দিয়ে
তার থেকে তোমায় কিনি,
তোমার মনের ঠিকানায় শুধু
আমার অবয়ব খুঁজি।
আমি আমার হৃদয়কে কেটেকুটে দেখি,
সেথায় কি তোমায় পেতে পারি।
তোমার অতিবাহিত সময়ে
সেখানে কি শুধুই আমি আছি,
আমার সর্বস্ব দিয়ে যদি
পেয়ে যাই এই তোমায়ই!
তোমার জন্য হতে পারি কলঙ্কিনী
অবশ্যই তাতে বোধ করি
থেকে থাকবে তোমার ঘোর আপত্তি,
আমি জানি, সেটা খুউব ভালো করেই জানি।
কি, তবুও তোমার মনের রং তুলি হতে
কখনো দিবে না একটি জল রঙে আঁকা তুলি,
ভাবিনি কখনো, এতোটা নিঠুর হবে তুমি!
তোমার চোখের পাতায় আমি হতে চাই রাজরানী
কি, তুমি করবে তোমার মনের সিংহাসনের পুঁজারিনী!

এরচেয়ে আমায় যদি কেউ

এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
এক পেয়ালা বিষ এনে দেয়,
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ খুন করে ফেলে।
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
মরুভূমির তপ্ত বালুচরে একা রেখে চলে আসে,
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
বরফ হয়ে যাওয়া লেকের উপর
খালি পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখে আসে।
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
কোন গহীন জঙ্গলের মাঝে
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠা
স্ফুলিঙ্গের মাঝে ছুড়ে ফেলে আসে!
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
যে কোন প্রকারের এক প্লেন থেকে
প্যারাস্যুট বিহীন ফেলে দেয়,
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
সমুদ্রের মাঝে কোন রকম
লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ভাসিয়ে দেয়।
এরচেয়ে আমায় যদি কেউ
চাবুক দিয়ে চাবকে আমার সারা শরীর
রক্তাক্ত করে তোলে,
এরচেয়ে আমায় কেউ যদি
মেরে গুম করে ফেলে!
তবুও – তবুও আমি অনেকটা
শান্তি পাবো আমার আত্ত¡াতে,
শান্তি পাবো আমার রুহুতে
শান্তি পাবে আমার মনটা
দুনিয়াবী কলুষতা ও কুটিলতা থেকে।
শান্তি পাবে আমার হৃদয়টা
কষ্ট নামক সেই বিষপোকা থেকে।
তাই বারে বারে আমার মনপাখিটা
চলে যেতে চায় শুধু –
সেই অচিনপুরের অচেনা অচীন নগরীতে!

জন্মাবো আমি তোমার হয়ে

চাই জন্ম নিতে আকাশ হয়ে
যাতে তুমি মেঘ হয়ে আসো আমার কাছে।
অথবা পাখি হয়ে উড়ে উড়ে যাও
আমার সারা আকাশ জুড়ে,
উড়োজাহাজ হয়ে কি উড়বে
বিকট শব্দে আমার বুকে।
বারে বার চমকে উঠবো আমি
ভাববো আমি কে রে এভাবে
ভয় দেখিয়ে যায় আমাকে!
চাইতো আমি শুধু তোমারই হতে
চাই জন্ম নিতে নদী হয়ে
কত শত নৌকোর ভীড়ে
তোমার ডিঙ্গিটা তো দেখবো সেখানে,
হোক আমার উপর যত
বিশাল জাহাজের ভারী ইঞ্জিনের আনাগোনা
তবুও তো ভাববো মনে
এর মাঝে তো একজন হয়ে থাকবে তুমি!
চাই তো আমি ফুলের বাগান হতে
যেথায় তুমি ঘুরে বেড়াবে,
ফুল তোমার সে যা-ই পছন্দ
সেটা শত ব্যাথা হলেও তোমায় ছিড়ে দিব।
যদি পারতাম তবে সাজিয়ে দিতাম
আমারই বাগানের নানা রঙের ফুলে,
তবু হতে চাই আমি তোমারই
সাথী হয়ে সারাটি জীবনের!

ভালোবাসাকে এমনি করে আঁকড়ে ধরে!

তুমি বললে যাবো তোমার সাথে সেই দূরের
গ্রামটিও পেরিয়ে, হঠাত যেদিন ডাকবে আমায় খুব করে
আমার চাওয়া বলবো সেদিন তোমায়
পেয়ে সেই সান্ধ্য বিকেলে।
তুমি চাইলে যাবো সেই নদীটির তীরে সান্ধ্য –
আধো আলো আধারীতে তোমায় তুষ্ট করতে,
হঠাত তোমার ইচ্ছেটারই দাম দিতে –
আমার জীবন সার্থক হবে সেই রাতেরই আধারেতে।
আমরা হবো একাকার দু’জন দু’জনেতে,
সেই পার্বনের উছিলাতে!
তোমার আমার ক্যামিষ্ট্রিটি
চলছে চলুক এভাবেই
তুমি চলবে আমার সনে,
শক্ত করে হাতটি ধরে।
আমি চলবো তোমার সাথে,
অজান্তে এক অজানা বিশ্বাসটুকু নিয়ে।
তুমি যাবে ঐ নদীর পাড়ের পথটি ধরে,
আমায় নিয়ে সবার অগোচরে।
আমি থাকবো তোমার দিকে চেয়ে,
কি আবেশ মোর লাগলো যে এ দু’চোখে।
তুমি যাবে দুর পাহাড়ের সেই গায়ে,
যেথায় আমরা থাকবো শুধু দু’জনে।
আমি হাটবো তোমার পাশে পাশে,
সে যে আমার কল্পনারই আঁকা
এক প্রতিচ্ছবি মনে।
তুমি বলবে চলতে চলতে থমকে দাঁড়িয়ে,
একটুখানি তোমায় চোখে হারাতে।
আমি হবো সিক্ত তোমার বাহুডোরে,
চুপটি করে অপলকে দু’জন দাঁড়িয়ে।
তুমি করবে যতোটা সুখী এই আমাকে,
সেদিন বিকেলে সেই নির্জনে।
আমি হবো তৃপ্ত থেকে তৃপ্ততর,
শুধুমাত্র তোমার এ আকস্মিক উপহারটুকু পেয়ে।
তুমি জানবে আমার থেকে বেশি,
ভালোবাসবে না আর এই ধরনীর কোন প্রেয়সী।
আমি করবো সেইভাবে প্রেম তোমার মনকে,
এইভাবে কচলে কচলে।
তুমি দেখবে আমার প্রেমে মত্ত¡ হয়ে,
ভালোবাসা কারে বলে।
আমি দেখাবো এমনি করে ভালোবেসে,
মরতে হবে এই ধরনীর তলে।
তুমি শিখাবে কেমন করে উপভোগ করতে হবে,
বাকীটা জীবন ভরে।
আমি শিখবো কিভাবে বাঁচতে হবে,
ভালোবাসাকে এমনি করে আঁকড়ে ধরে!