বকুল ভৌমিক

অভাবের বৃত্তের মধ্যে স্থিত – মধ্যবিত্ত,
পার্থিব জীবন নিয়ে স্বপ্নের ঘোরে বিরাণ পথে হাঁটা
শিক্ষাগত যোগ্যতা সে শুধুই এটুকরো কাগজ সুটকেসে আঁটা
বাসের রেলিং ধরে গাঁদাগাদি,
কাঁধে টিফিন বক্স এই নিয়ে শুরু হয় সকালের যাত্রা
অফিসে কভু না হয় দেরি,
তেরে নাহি উঠে বসের তীব্র অনূভুতির মাত্রা
ছাপোষা কেরানি বা অফিসের নিম্নতর পদটি তার দখলে
বাসায় কভু ফেরা হয় না সময়ে, কর্মস্থল খালি না হলে।
সখ আহ্লাদের নির্মম আত্মহুতি,
ইচ্ছের কাছে চাহিদা ধরাশায়ী
সাধ আর সাধ্যের অসমন্বয়ে জীবন বাধা স্থায়ী।
জীবন যুদ্ধে নত, অভাবের সাথে সন্ধি
অর্থের টানাপোড়েন এ তো নিত্যদিনের সঙ্গি
নিত্যদিনের দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি
মরার উপর খাঁড়ার ঘা মধ্যবিত্তের এ নিষ্ঠুর নিয়তি

ভালোবাসা উঁকি দেয় জীবনের কোন এক অংশে নিছক কল্পনায় স্বপ্ন সাজে
যতটুকুই বা হৃদয় অন্তরীক্ষে বাসা বাধে তা অংকুরেই ঝরে পরে, স্তব্ধ হয়ে যায় চাওয়া পাওয়ার মাঝে
বিবাহ বার্ষিকী আর জন্মদিন নিছক বিলাসিতা জীবন রোষানলে
পূর্ণিমার চাঁদ যেমন কাল মেঘের আঁধারে যায় মিলে
দূরে রয় ভালোবাসা ভালোলাগার স্মৃতিচারণ
মনস্ক সারাক্ষণ কিভাবে জুটবে সন্তানের স্কুলের টিউশন
ফাঁকা হৃদয়ের কষ্টগুলো লাঘবে পার্কের বেঞ্চিতে বসে আকাশ দেখা
যেন সংসারে ছাপ না লাগে তাই বুকের ভিতরে নিজের করে চেপে রাখা।
কুলির বলদের ঘাড়ে তেলের ঘানি
পাছে যায় মান সন্মান এই ভেবে সংসারের বলির পাঠা সবকিছুই তা নেয় মানি
বুকের তঞ্চিত কষ্টগুলো রয়ে যায় গোপনে
ঘরের নিজ আয়নাটিও নাহি তা জানে।

শাসক ও শাসিতের মধ্যে মধ্যবিত্তের অবস্থান নিরবধি
রাজনীতি আর আলোচনায় শুধু সীমাবদ্ধ
সমাজের শ্রেণী বিন্যাস আর মধ্যবিত্তের দুর্গতি।
অটোয়া