ই-পেপার

আদালতের নির্দেশের পরও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে

আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:২৩
২১ ভিউ
আদালতের নির্দেশের পরও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও হোয়াইট হাউসেপ্রবেশে বাধার মুখে পড়েছেন সিএনএন ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের অতিথিদের আগমন কভার করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সিএনএনের এক প্রতিবেদক ও একজন প্রযোজক এবং এমএস নাউয়ের এক হোয়াইট হাউস প্রতিবেদককে অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সংবাদমাধ্যম দুটি জানিয়েছে।

তাদের দাবি, অনুষ্ঠানটি কভার করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রের আবেদন যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল। সিএনএন জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের আগমনের প্রায় এক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউস জানায়, তারা শুধু একজন ফটোসাংবাদিক ও একজন অডিও প্রযুক্তিবিদকে পাঠাতে পারবে; প্রতিবেদক ও প্রযোজকসহ পুরো দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এমএস নাউয়ের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক লরা ব্যারন-লোপেজ জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান এবং যোগাযোগের জন্য হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালককে উল্লেখ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের নির্দেশের পরও সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা জরুরি শুনানির আবেদন করে।

এর জবাবে হোয়াইট হাউসের পরিচালনা বিভাগের পরিচালক আদালতে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস পাস ও জব্দ করা পরিচয়পত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর তিনটি সংবাদমাধ্যমই জানায়, তাদের সাংবাদিকদের আবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়ে নতুন করে প্রবেশে বাধার অভিযোগ ওঠে।

এর আগে ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি ট্রাম্প প্রশাসনের সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপটি সাংবিধানিক ন্যায্য প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এমন দাবি আদালতে টিকে থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

বিচারক অবিলম্বে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বন্ধ রাখতে বলেন।

হোয়াইট হাউস অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার বাতিলের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল। আদালতের নথিতে বিচারক কেলি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রেস পাস বাতিলের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে প্রশাসনের উপস্থাপিত তথ্য যথেষ্ট নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় ট্রাম্প নিজে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণ এবং সাম্প্রতিক রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনও ছিল।

ট্রাম্প গত শুক্রবার প্রথমবার সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি সংবাদমাধ্যম তিনটির বিরুদ্ধে তার প্রশাসন সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ ও ‘মনগড়া’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তোলেন। পরদিন তিন সংবাদমাধ্যমই জানায়, তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রেস ব্যাজ জব্দ করা হয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যম পরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আইনি পদক্ষেপ নেয়। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে তা সরকার নির্ধারণ করবে না এই নীতি রক্ষায় তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

এই মামলায় ৫০টির বেশি সংবাদমাধ্যম আদালতে সহায়ক নথি জমা দিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও রয়েছে।

এদিকে ফক্স নিউজ, এনবিসি, সিবিএস ও এবিসিসহ কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি সংহতি জানিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি সম্প্রচার কভারেজ বন্ধ করেছিল। তারা আবার নিয়মিত কভারেজ শুরু করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক একটি অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেছে, সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসের প্রতিটি অংশ, প্রতিটি অনুষ্ঠান বা প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে অবাধ প্রবেশাধিকার পাবে এমন নয়।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে এ ধরনের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট প্রেস পুল সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে অন্য চারটি নেটওয়ার্ক আপত্তি জানানোর পর ফক্স নিউজকে ওই সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।