ই-পেপার

বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা

বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে একটি ‘বয়ান’ তৈরির চেষ্টা

আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২১
২৮ ভিউ
বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে একটি ‘বয়ান’ তৈরির চেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির ‘ট্যাগিং’ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা রাজনীতি। আমি এটা বলছি না যে এই সরকারের সময়ে, এই সরকারের সঙ্গে কানেক্টেড বা এই সরকারের দলের নাম নিয়ে কেউ এটা করছে না। আমরা ন্যারেটিভের কথা বলছি। এই চেষ্টা ইন্টেরিমের সময় থেকেই রয়েছে। এই চেষ্টা চলছে এবং এটা রাজনীতি। তারা এই রাজনীতি করার চেষ্টা করতেই পারেন।’


আরও পড়ুনঃ চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে, সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সাদিয়া


সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়ায় সালমানের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি ও বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, পরবর্তী সময়ে সালমানের বক্তব্যে তার কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে জনপ্রিয় ও ব্যাপক অনুসারী থাকা কোনো ব্যক্তি কোনো অভিযোগ করলে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও বড় হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সালমান সরাসরি তার কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য সংশোধন করেছেন। তাই প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে যেসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রচার হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তার দাবি, সালমানের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতের আমির সরকার ও সরকারি দলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। পরে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেই পোস্ট প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। তবে পরে সেই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে নিজের অবস্থান সংশোধন করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।

এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, ঘটনার পর বিএনপি, দলটির নেতৃত্ব এবং সরকারকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য সামনে এলেও এসব বক্তব্যের অনেকগুলো সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এজন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই।

তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান তিনি। কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা তার ওপর হামলা হলে তা ঠেকানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানান, হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্তে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য কিংবা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাই তদন্তের শেষ নয়; তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।