চরিত্র কথা বলছে, প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, এমনকি খেলোয়াড়ের
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : চরিত্র কথা বলছে, প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, এমনকি খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথোপকথনের ধরনও বদলে নিচ্ছে- সবকিছুর পেছনে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। চীনের বৃহত্তম বার্ষিক গেমিং প্রদর্শনী ‘চায়নাজয়’-এর এবারের আসরে দর্শকদের নজর কেড়েছে এআই-চালিত গেম ডেভেলপমেন্ট প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বাস্তবসম্মত হিউম্যানয়েড রোবট।
প্রদর্শনীতে একজন দর্শনার্থী বলেন, চরিত্রটি অবিশ্বাস্য রকম জীবন্ত। মনে হচ্ছে সত্যিকারের একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি।
এআইয়ের ফলে এখন সাধারণ ভাষায় নিজের ধারণা তুলে ধরেই কোড তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এআইয়ের প্রভাবে খেলোয়াড়েরা এখন গেমের চরিত্রগুলোর সঙ্গে আরও স্বাভাবিকভাবে কথোপকথন চালাতে পারছেন।
মিওনথাইন প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট দলের সদস্য সিয়াও হানা বলেন, এবার আমরা এআই এজেন্ট যুক্ত করেছি, যাতে খেলোয়াড়েরা তাদের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন। এর পেছনে প্রতিটি চরিত্রের জন্য প্রায় এক লাখ শব্দের ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এআইয়ের কারণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে গেমসের বাজার যাচাইয়ের কৌশলও। টেনসেন্ট গেমসের ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক চাং চিয়ান বলেন, গেমের বাজার কেমন হবে তা খুব প্রাথমিক পর্যায়েই যাচাই করা যাচ্ছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও কমে যাচ্ছে। প্রশ্নটা এখন ‘এটি বানানো যাবে কি না’ থেকে বদলে হয়েছে ‘ধারণাটি যথেষ্ট ভালো কি না’। ভবিষ্যতে সৃজনশীল ধারণাই মূল্যবান হয়ে উঠবে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের নিজস্ব গেমগুলো বিদেশের বাজার থেকে আয় করেছে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। 'ওয়ার্কবাড'-এর প্রডাক্ট অপারেশন বিশেষজ্ঞ তং চিতোং বলেন, আমাদের অনেক শিক্ষার্থী প্রচলিত কম্পিউটার বিজ্ঞান বা চারুকলার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসেনি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনের শিক্ষার্থীরাও আছে। তারা নিজেদের পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসে গেম তৈরিতে নতুন ধারণা যোগ করছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই গেম নির্মাণকে সহজ করলেও সৃজনশীলতার গুরুত্ব কমাবে না; বরং সৃজনশীল ধারণার গুরুত্ব আরও বাড়াবে।
সূত্র: সিএমজি