ই-পেপার

চরম ঝুঁকির মুখে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

বিশ্ব বাণিজ্য গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিঘ্নের

আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৪
৫৩ ভিউ
চরম ঝুঁকির মুখে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ব বাণিজ্য গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিঘ্নের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট জটিলতা বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও সারের দামের ওপর হুমকি সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে আনাদোলু।

জেনেভায় ডব্লিউটিও-র ‘পাবলিক ফোরাম’-এর ফাঁকে আনাদোলুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা এখনো বেশ স্থিতিস্থাপক; তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সংস্থাটির ১৬৬টি সদস্য দেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ভূ-রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও এ বছর পণ্য বাণিজ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে ৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ৭২ শতাংশই ডব্লিউটিও-র নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছে।

সারা বছরের জন্য পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল ১.৯ শতাংশ, কিন্তু বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি জানান, এই গতিশীলতার একটি বড় অংশ এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের ফলে; আর এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বল্প বা শূন্য শুল্কের চুক্তিগুলো।

তিনি এ প্রবণতার দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রমরমা বাণিজ্যের অর্থনৈতিক সুফল মূলত উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ায় কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে, যা বিশ্ব বাজারের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট বিঘ্নের ফলে যে ধাক্কা লেগেছে, তা থেকে জাতীয় মজুত ভাণ্ডার সাময়িকভাবে বাজারকে রক্ষা করেছে; কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ অনিবার্যভাবেই কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে।

ডব্লিউটিও-র আগের হিসাব অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে পৌঁছালে তা সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিকে ০.৫ পয়েন্ট কমিয়ে দিতে পারে—অথচ বর্তমানে তেলের দাম সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো বিকল্প পথে জাহাজ চালিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ফলে পরিবহন খরচ বা প্রিমিয়াম অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ বা 'চোকপয়েন্ট'-এ কোনো বিপর্যয় ঘটলে তা থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করছে। পাশাপাশি, সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়মকানুন ঢেলে সাজানোর বিষয়ে ডব্লিউটিও-র অভ্যন্তরীণ আলোচনা আরো জোরদার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুষম বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বর্তমান কাঠামোটি প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

ওকোনজো-ইওয়েলা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তার আহ্বান জানান যাতে তারা অর্থনৈতিক সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে; একইসাথে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো অকার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলোর সংশোধন এবং এই দেশগুলোকে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘পাবলিক ফোরাম’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিপর্যয় এবং বিধিবিধান আধুনিকীকরণে ব্যর্থতার ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়ে যেতে পারে। সূত্র : ডন অনলাইন।