ই-পেপার

ইরান যুদ্ধ ও গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদ: সামরিক ইভেন্টে বিক্ষোভের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে একটি সামরিক সম্মেলনে

আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৪
৩২ ভিউ
ইরান যুদ্ধ ও গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদ: সামরিক ইভেন্টে বিক্ষোভের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে একটি সামরিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তীব্র বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘ভীতু’ বলে স্লোগান দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ইউএস আর্মি (AUSA)-এর বার্ষিক সম্মেলন ও এক্সপোতে এই ঘটনা ঘটে। ওয়ল্টার ই. ওয়াশিংটন কনভেনশন সেন্টারে অটোনমাস ওয়ারফেয়ার বা মনুষ্যবিহীন যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনা চলাকালে এই হট্টগোল শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্যানেল চলাকালীন একে একে বেশ কয়েকজন প্রতিবাদকারী দাঁড়িয়ে তীব্র ভাষায় মার্কিন সামরিক নীতির প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, “গাজায় শিশুরা না খেয়ে মরছে!” আবার কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনি আমার পরিবারকে হত্যা করছেন!” এক বিক্ষোভকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেন, “আপনি কোনো যোদ্ধা নন, আপনি একজন ভীরু এবং যুদ্ধাপরাধী। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত দ্য হেগ-এ আপনার বিচার হবে।” সম্মেলন কক্ষজুড়ে ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নয়’ লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়।

বিক্ষোভের মুখেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। প্রথম এক বিক্ষোভকারীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তিনি আমার সম্পর্কে বেশ উচ্চ ধারণা পোষণ করেন”, যা উপস্থিত কিছু সমর্থকের মধ্যে হাসির খোরাক জোগায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে একে একে বিক্ষোভকারীদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।

বিক্ষোভ প্রশমিত হওয়ার পর হেগসেথ তার বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কৌশলের পক্ষে সাফাই গান। তিনি বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা খাতে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পুরনো দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের ইরান নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে দেশের ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক ও জনঅসন্তোষের মুখে পড়ছে ওয়াশিংটন, যার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই সামরিক সম্মেলনে। সূত্র: আনাদুলু।