ই-পেপার

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে

আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৮
৮ ভিউ
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম উঠে গেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। জ্বালানির এই বাড়তি দামের কারণে পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও চাপ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, ট্রেন, নৌযান ও বাসসহ কৃষি ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের যানবাহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানিটির দাম বাড়ায় শুধু চালকরাই নন, পণ্য পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। গত বছর একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ডিজেলের যে সর্বোচ্চ দাম রেকর্ড করা হয়েছিল, বর্তমান মূল্য সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এর পেছনে বিশ্ববাজারে পাইকারি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাড়তি জ্বালানি মূল্যের চাপ কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সব আমেরিকানের জন্য ‘গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি তেল চুক্তির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ডেলটা ফোরস আটক করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনে পরিচালিত এক অভিযানের পর তাকে আটক করা হয়।

শনিবার ঘোষিত সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা থাকা ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার একটি অভিজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।

তবে চুক্তিটি নিয়ে সংশয়ও দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ বাধাগুলো নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে কতটা দূর করা সম্ভব হবে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর সংকটও সামনে এসেছে। গাড়ির জ্বালানির অন্যতম প্রধান উপাদান অপরিশোধিত তেল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জবাবে কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয়ে থাকে। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা জ্বালানির দামেও।

দ্রুত জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদনের হার কমে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে জ্বালানির দাম একই হারে বাড়েনি। মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, করের পার্থক্য এবং দেশটির তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে দূরত্বের কারণে পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম তুলনামূলক বেশি।

এর মধ্যে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য ৬ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগে একই পরিমাণ ডিজেলের দাম ছিল ৫ দশমিক ৩ ডলার।

ডিজেলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ২০ ডলার।