ই-পেপার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের তথ্য পেয়েছে জাতিসংঘ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুটি হামলা যুদ্ধাপরাধ

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯
১৭ ভিউ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের তথ্য পেয়েছে জাতিসংঘ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুটি হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানে জাতিসংঘের সত্যতা যাচাই মিশনের বরাতে উঠে এসেছে তথ্যটি। ওই দুটির একটি হলো– স্কুলে হামলা, আর দ্বিতীয়টি ক্রীড়া প্রাঙ্গণে হামলা। পাশাপাশি ইরানের কর্তৃপক্ষ নিজ দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে বলেও উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মিশন।

তদন্তে উঠে আসা তথ্যগুলো প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে ইনডিপেনডেন্ট ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। গোটা তদন্তটি করা হয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধের আগে

গত ডিসেম্বরে সংঘটিত বিক্ষোভে ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া কী ছিল– তা জানতে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে ইরান ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশন কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সশস্ত্র সংঘাতের নিয়ম মেনেই তারা সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে ইরানও বারবার পদ্ধতিগত অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।

স্কুলে ও ক্রীড়া প্রাঙ্গণে হামলা

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিনাব শহরের শাজারেহ তায়েবেহ প্রাইমারি স্কুলে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দায়ী এমন যুক্তিসংগত কারণ পেয়েছে তারা। ইরানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, সেখানে ১৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়, যার মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুল শিক্ষার্থী।

জাতিসংঘ মিশনের দেওয়া তথ্যানুসারে, হামলাটি নির্বিচার আক্রমণের কাতারে পড়ছে। এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র তথ্য যথেষ্ট যাচাই করেনি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার সেখানে রয়েছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী সেখানে আঘাত হানে। তদন্তকারীরা বলেছেন, হামলার লক্ষ্যবস্তুর তথ্য হালনাগাদ না করা ও অবকাঠামোটির সামরিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি অবহেলার চেয়েও বড় কিছু।

অভিযোগ রয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের ফারস প্রদেশের লার্মেদ শহরে ক্রীড়া প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলাও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ মিশন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবনসহ কয়েকটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হন। এটিও নির্বিচার হামলার সমতুল্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত মার্চে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সেদিন তাদের পক্ষ থেকে লার্মেদ শহরে কোনো হামলা চালানো হয়নি।

ইরানের মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইরানে গত ডিসেম্বরে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সে বিক্ষোভ দমনে কঠোর হতে দেখা যায় সরকারকে। প্রচুর বিক্ষোভকারী দমনপীড়নের শিকার হন।

সে সময় বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, জোরপূর্বক গুম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তদন্তকারীদের মতে, এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য।

ইরানের সরকারি হিসাব অনুসারে, বিক্ষোভের সময় তিন হাজার ৩৮ জন নিহত হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ২৫ হাজার।