ই-পেপার

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলেও ইসরায়েল এখনো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে আপাতদৃষ্টিতে ‘চুপ’ রয়েছে

আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:১৯
৮ ভিউ
ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলেও ইসরায়েল এখনো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে আপাতদৃষ্টিতে ‘চুপ’ রয়েছে। তবে এই নীরবতা মূলত কৌশলগত, পর্দার আড়ালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনার জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বুধবার রাতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যেকোনো মুহূর্তে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত রাখা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি হঠাৎ ইসরায়েলের দিকে মোড় নিলে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান প্রত্যাহার করে নিলেও, ইতোমধ্যেই তা পুনরায় মোতায়েন করেছে। এই বিমানগুলোর উপস্থিতি যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত এবং এগুলোর কয়েকটি আগে থেকেই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে রাখা ছিল।

তেল আবিবের একজন সামরিক মুখপাত্র বুধবার বলেছেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে আদেশ পাওয়া মাত্রই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিতে প্রস্তুত।’

তিনি আরও জানান, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, আইডিএফ একটি স্বতন্ত্র অভিযানের পরিকল্পনা করছে, যা মার্কিন বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়।

অন্যদিকে, সীমান্ত সুরক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী, বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে আইডিএফ।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কোণঠাসা হয়ে ইরান তাদের প্রক্সি বা আঞ্চলিক মিত্রদের (হিজবুল্লাহ ও হুথি) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার আদেশ দিতে পারে। ফলে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুুত নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী, বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে।

তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইসরায়েল প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা বা সমঝোতা চুক্তির বিরোধী ছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হামলা এবং চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে ইসরায়েল নিজেদের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে, কারণ এর ফলে তেহরান এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই নিজে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও ইসরায়েল তার মূল লক্ষ্য (ইরানকে দুর্বল করা) অর্জিত হতে দেখছে।

প্রসঙ্গত, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গত শনিবার ( ৫ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছিল ইরান। সেই হামলার পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলা করেছিল ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এই হামলা এবং পাল্টা হামলার মধ্যেই গতকাল বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন— ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই বুধবার দ্বিতীয় দফায় ইরানে হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা প্রথমে মঙ্গলবার রাতে ৮০টি এবং দ্বিতীয় দফায় বুধবার রাতে ৯০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।

আইআরজিসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সেন্টকমের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত-বাহরাইনে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৮ ও ৯ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে চালানো মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আই২৪