লেখিকা ও কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : লেখিকা ও কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন দেশটির আদালত। যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় জুরি বোর্ড ট্রাম্পকে দায়ী করার পর বুধবার (৮ জুলাই) এই নির্দেশ দেন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক লুই কাপলান।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের করা আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে ২০২৩ সালের মে মাসে দেয়া মূল রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়। ওই রায়ে যৌন নিপীড়নের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার এবং মানহানিকর বক্তব্যের জন্য ৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ৮২ বছর বয়সী ক্যারল, একসময় সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।
২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করলে ট্রাম্প ক্যারলকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দেন এবং তার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দেন।
তবে সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ওই রায় কার্যকর হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। বুধবার ফেডারেল বিচারক লুইস কাপলান নির্দেশ দেন, আদালতে জমা রাখা ৫ মিলিয়ন ডলার ট্রাম্পকে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সুদও পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে ২০২২ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে করা আরেকটি মানহানি মামলায় ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ (৮৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন) ডলার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখলেও বর্তমানে এর কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।
এর আগে মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ক্যারলের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলায় বিভিন্ন জবানবন্দির সময় তিনি শপথ নিয়ে মিথ্যা বলেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা এই তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।