ই-পেপার

কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী

আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৮
২৯ ভিউ
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে বহু ভবন ধসে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকায় এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০৭ কিলোমিটার নিচে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ে পর্যটন নগরী পেরেইরাতে ১৮ জন এবং মানিজালেস শহরে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

পেরেইরা শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার স্থানীয় রেডিও স্টেশন 'কারাকোল'-কে জানান, তার শহরেই অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও অনেকে বিধ্বস্ত ভবনগুলোতে আটকা পড়েছেন।

এছাড়া দেশটির তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল কালি শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, শহরে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়ে বহু মানুষ আটকে আছেন। তাদের উদ্ধারে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেন্তুরাসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি কেবল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং দূরবর্তী ভেনিজুয়েলাতেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, বোগোতাসহ অনান্য শহরের অসংখ্য মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বহুতল আবাসিক ভবন ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। রাস্তায় জমায়েত হওয়া এসব মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ এবং অনেককে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।

এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই এক এক্স বার্তায় চোকোর গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র একটি বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছি। আমরা আফটারশক নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদিও এর কেন্দ্রস্থল সান হোসে দেল পালমারের কাছে ছিল, রাজধানী কুইবদোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে বোগোতার মেয়র কার্লোস গালান জানিয়েছেন, রাজধানীতে বড় কোনো ধস না হলেও কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এরআগে কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট (ইউএনজিআরডি) বলেছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ এবং গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭৯ কিলোমিটার নিচে।

প্রসঙ্গত, ভেনিজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রতিবেশী দেশটি এই ভূমিকম্পটি ঘটেছে। ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে দেশটিতে ৬ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত ভবন ধ্বংস হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা