ই-পেপার

কানাডা-ইইউ জোট মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার জন্য নয়, বললেন কার্নি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন যে, ইউরোপীয়

আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫০
৪০ ভিউ
কানাডা-ইইউ জোট মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার জন্য নয়, বললেন কার্নি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক গভীর করার তার প্রস্তাবের লক্ষ্য ‘ভদ্র আচরণযুক্ত’ কোনো নতুন ভূ-রাজনৈতিক ব্লক বা প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করা নয়। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইইউ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তৃতার সময় কার্নি এ কথা বলেন।

বুধবার স্ট্রাসবার্গে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’এর ভাষণে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডার লেইন কানাডাকে ইইউ জোটের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দেন। তবে এ প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ধারণা এটি ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ হতে পারে।

ইইউর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যদি এটি ভালো উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে ঠিক আছে।

কিন্তু উদ্দেশ্য যদি খারাপ হয়, তবে আমরা ইউরোপের ওপর খুব ভারী শুল্ক চাপিয়ে দেব, যা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উর্সুলা ভন ডার লেইনের প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার পরদিন ইইউ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, ‘কোনো পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার জন্য আমি তৃতীয় কোনো ব্লকের প্রস্তাব করছি না, যার আচরণ কেবল একটু ভালো বা ভদ্র হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অন্যদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য ক্ষমতা খুঁজছি না।

এর বিপরীতে, আমরা এমন এক স্থিতিস্থাপকতা অর্জন করতে চাই যাতে কেউ আমাদের উন্মুক্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, আমাদের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে না পারে, আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে কিংবা আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের গণতন্ত্র ও আমাদের আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করতে না পারে।’

বক্তৃতার সময় কার্নি মাঝে মাঝে ফরাসিতে কথা বলেন এবং কানাডা ও ইইউ-এর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গভীর আলোকপাত করেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ক্ষয়কে ‘নতুন ঝড়’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। কার্নি বলেন, ‘ইউরোপ এবং কানাডা একসাথে থাকলে আরও শক্তিশালী হবে। একটি কানাডা-ইইউ জোট অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্য একটি আলোকবর্তিকা তৈরি করবে।

কার্নি জানান যে, কানাডাকে ইইউ-এর ‘সহযোগী সদস্য’ করার ভন ডার লেইনের আকাঙ্ক্ষাকে তিনি স্বাগত জানান। জরিপ অনুযায়ী, কানাডিয়ানদের একটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সমর্থন করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কানাডা এবং ইউরোপের উচিত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। এ ছাড়া ইউরোপকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সরবরাহ করার ক্ষেত্রে কানাডার সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন যে, ইউরোপ এবং কানাডা যৌথভাবে এআই নিরাপত্তা প্রটোকল তৈরি করতে পারে। তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরো গভীর করা উচিত, যাতে আমাদের যুবসমাজ আটলান্টিকের উভয় পাড়েই তাদের ইচ্ছামতো বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন মার্ক কার্নি। কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন—উভয় দেশই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ভুক্তভোগী, যা তাদের নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নতুন জোট গঠনে উদ্বুদ্ধ করেছে।