যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা নির্বাচন সহায়তা কমিশনের (ইএসি) শেষ তিন কমিশনারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা নির্বাচন সহায়তা কমিশনের (ইএসি) শেষ তিন কমিশনারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের সহায়তা দিয়ে থাকে নির্বাচন সহায়তা কমিশন। চার সদস্যের এই দ্বিদলীয় কমিশনের একজন সদস্য গত এপ্রিলে দায়িত্ব ছাড়ার পর বাকি তিন কমিশনারকেও এবার পদ ছাড়তে হয়েছে।
জানা গেছে, রিপাবলিকান মনোনীত একমাত্র কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট মনোনীত দুই কমিশনারকে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিস থেকে পাঠানো বার্তার মাধ্যমে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর প্রেসিডেন্টের স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর পরই ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সামনে এলো।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ভোট ব্যবস্থাপনায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। যদিও দেশটির নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতেই থাকে।
কমিশনারদের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিরাপদ রাখা এবং প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের নীতির সঙ্গে যারা একমত নন, তাদের অপসারণের অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে জালিয়াতি ও অনিয়ম থেকে সুরক্ষিত রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বিষয়ে শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন সহায়তা কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটি নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্যের জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এবং নাগরিকদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে অনিয়মের মাধ্যমে তার কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০০২ সালের আইনে গঠিত নির্বাচন সহায়তা কমিশনে দুই ডেমোক্র্যাট ও দুই রিপাবলিকান সদস্য থাকার বিধান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দিলেও সদস্যদের নিয়োগ কার্যকর করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
অপসারিত তিন কমিশনার হলেন থমাস হিকস, বেঞ্জামিন হোভল্যান্ড ও ক্রিস্টি ম্যাককরমিক। তিনজনকেই সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দিয়েছিল।
তবে কমিশনটি এখন কীভাবে পরিচালিত হবে এবং নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য এটি চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত। তথ্যসূত্র : রয়টার্স