ই-পেপার

মার্কিন চাপের মুখেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পাশে কানাডা

টরন্টোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক

আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫২
২১ ভিউ
মার্কিন চাপের মুখেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পাশে কানাডা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : টরন্টোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি দেশটির অটল ও অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। মিত্র দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সদস্যপদ ও অর্থায়ন প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রশাসন টানা চাপ দিয়ে আসলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে অটোয়া।

কার্নি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক কানাডার বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন এবং তার সরকার আইসিসি রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, কানাডা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি গর্বিত সদস্য রাষ্ট্র। কানাডা এই আদালতকে অর্থ, দক্ষ জনবল, নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক ও বিভক্ত বিশ্বে আইসিসি এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আদালতের দায়িত্ব ও পরিধি দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার এক মামলাকে কেন্দ্র করে আইসিসির কানাডীয় বিচারক কিমবার্লি প্রস্টসহ চার কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞায় পড়া নিজ দেশের বিচারক কিমবার্লি প্রস্টের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কার্নি জানান, কানাডা সরকার ওই বিচারককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছানোর আশ্বাস দেন তিনি। তবে নানা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি অটোয়ার সমর্থন যে সম্পূর্ণ অনড় ও অসংকোচ, তা তিনি দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আইসিসির তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। যদিও পরবর্তীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে করিম খানকে পদচ্যুত করা হয়, তবু ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয় মার্কিন প্রশাসন এবং আইসিসির ওপর একের পর এক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, আইসিসি প্রতিষ্ঠার মূল সনদ ‘রোম সনদে’ যুক্তরাষ্ট্র কখনোই স্বাক্ষর করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি চাদ আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলা, বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার এই আন্তর্জাতিক আদালত থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এমন এক বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি