ই-পেপার

সৌদি-হুতি সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা, সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যকার সংঘাত

আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:০৬
৮ ভিউ
সৌদি-হুতি সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা, সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যকার সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ‘অপ্রত্যাশিতভাবে অবনতি’ হতে পারে।

রোববার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, চলমান সংঘাত দ্রুত অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বিমান চলাচল বন্ধ হওয়া, আকাশপথে বিধিনিষেধ এবং ভ্রমণে নানা ধরনের সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের এই অঞ্চলে বা এই অঞ্চল হয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা আবারও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো এর আগে হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ইরান বা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ক্যাম্প ডেভিডে তার ছুটি সংক্ষিপ্ত করে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে হোয়াইট হাউসে ফিরে গেছেন। তবে কেন তিনি আগেভাগে ফিরে এসেছেন, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তার যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন বলে জানিয়েছে আই২৪নিউজ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানান, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা ধ্বংস করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু এলাকায় বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলার চেষ্টাও ঠেকানো হয়েছে।

এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি পরে দাবি করেন, সৌদি আরবে দুটি বড় হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

তার দাবি, প্রথম হামলার লক্ষ্য ছিল রিয়াদের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’। দ্বিতীয় হামলায় ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়।

ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, দুই হামলাতেই বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সানায় হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিরা হামলা চালিয়েছে—সৌদি আরবের এমন অভিযোগেরও জবাব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি তখন ভেঙে পড়ে।

এরপর হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে। জবাবে সৌদি আরব হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষ লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।

তথ্যসূত্র: শাফাক নিউজ