ই-পেপার

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির কাছে পাত্তাই পেল না জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।

আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৩
৩৯ ভিউ
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির কাছে পাত্তাই পেল না জামায়াত

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

পোস্টাল ভোটসহ ঘোষিত ফলাফলে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নির্বাচনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম। এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আসনটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।

নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৯ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে ৪৫০ ভোট পেয়েছেন।

আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৫১ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০ জন। ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৩২৫টি ভোট।

ভোটগ্রহণ শেষে মির্জা ফয়সল আমীন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না। পাশাপাশি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রে প্রক্সি বা জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতীকসহ ভোটার স্লিপ বিতরণের দায়ে জামায়াতের এক নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচন শতভাগ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয় ডেটাবেজের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিষয়টি বুঝিয়ে সমাধান করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসনটিতে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি ও স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।