ই-পেপার

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর বার্তা, লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি

উপসাগরীয় দেশগুলোকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান

আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২
৩৪ ভিউ
উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর বার্তা, লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : উপসাগরীয় দেশগুলোকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে যেকোনো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে অঞ্চলজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বুধবার (৫ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর একাধিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা, দুটি উপসাগরীয় সূত্র এবং একজন জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

আরাঘচি ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হামলা থেকে বিরত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরজুড়ে মার্কিন সম্পদ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আরাঘচির বার্তা ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, আমরা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে এ অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হলো একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।

উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সতর্কবার্তা ছিল দ্ব্যর্থহীন। আমেরিকা যদি ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নেবে।

জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পরবর্তীতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করতে, আলোচনায় ফিরতে, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছেন।

আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সতর্কবার্তাটি প্রতিটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের জন্যই ছিল। তবে এটি মূলত সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার সাবেক আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছে।

ইরানের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে মার্কিন হামলা এ অঞ্চলকে নরকে পরিণত করতে পারে বলে তেহরান সতর্ক করেছে। এরপর কাতার, ওমান ও সৌদি আরব সবাই ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে গত ২ আগস্ট ট্রাম্প বলেন, দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে রাজি হয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র জানিয়েছে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তা কেবল আরও ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনবে বলে মনে করছে সৌদি আরব। এজন্য দেশটি ট্রাম্পকে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি রিয়াদ জানিয়েছে, হুমকির মুখে পড়লে তারা আত্মরক্ষা করবে।

দ্বিতীয় আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব সতর্ক করেছে যে, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো হামলার সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার দাবি বারবার জানিয়েছে। তারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইরানে হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন হামলার জবাবে উপসাগরজুড়ে জ্বালানি স্থাপনা, শোধনাগার, বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ অবকাঠামো, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং তেলক্ষেত্রে হামলা চালানো হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের অবকাঠামোকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে। ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর জবাবে তারা আরও বড় ক্ষতি করবে।

সূত্র : রয়টার্স