
খুরশিদ শাম্মী : গত ২৭ নভেম্বর, ২০২১ শনিবার অর্গানাইজেশন ফর টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক্, তাদের দীর্ঘ সাত বছরের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল টরন্টো ডেন্টোনিয়া পার্কে নির্মিত স্থায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করল টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষকে। সিটি অব টরন্টো মেয়র জন টরি অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই উপহার গ্রহণ করেন ওটিআইএমএলডিএম-এর চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত, প্রেসিডেন্ট ম্যাক আজাদ, জেনারেল সেক্রেটারি আবুল আজাদ, ট্রেজারার মীর্জা শাহীদুর রহমান, পরিচালক মনির ইসলাম ও জামাল হোসেনের হাত থেকে, যা টরন্টোর বাংলা কমিউনিটির জন্য মূল্যবান এক ইতিহাস হয়ে রইল। মূল্যবান এই উপহার গ্রহণের পরপরই তিনি স্মৃতিস্তম্ভের স্মারকলিপি উন্মোচন করেন। ডেন্টোনিয়া পার্কের ভাষা স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশের স্বনামধন্যা অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, টরন্টো ইস্ট-ইয়র্ক বিচেস এর সিটি কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড, সিটি কাউন্সিলর গ্যারি ক্রফোর্ড, প্রাক্তন সিটি কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস, এমপি নাথানিয়েল আর্সকিন-স্মিথ, এমপিপি রিমা বার্নস-ম্যাকগোয়ন, এমপিপি ডলি বেগম, অর্গানাইজেশন ফর টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক্-এর প্রাক্তন পরিচালকমণ্ডলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই রুমানা চৌধুরীর সঞ্চালনায় ওটিআইএমএলডিএম সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ম্যাক আজাদ তাঁদের দীর্ঘ সাত বছরের যাত্রাপথে যাঁরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সংগঠনের চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত তাঁর বক্তবে উল্লেখ করেন যে আমাদের সবার কাছে মাতৃভাষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয় এবং তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে এই ভাষা স্মৃতিস্তম্ভ আমাদের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য আমাদের কর্তব্য মনে করিয়ে দেবে, যেন আর কোনো ভাষা হারিয়ে না যায়। ট্রেজারার মীর্জা শাহীদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সংগৃহীত মোট তহবিলের হিসেব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি সিটি অব টরন্টো মেয়র জন টরি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভ বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যান্য সকল ভাষার মানুষদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি মাতৃভাষা রক্ষার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও কানাডার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি ওটিআইএমএলডিএম এর দীর্ঘ সাত বছর কতটা রুক্ষপথ যে মোকাবিলা করতে হয়েছে, তা উল্লেখ করেন। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতিতে বাংলাদেশ ও কানাডার ভ্যানকুভার অধিবাসী রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম এর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। সিটি কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড, গ্যারি ক্রফোর্ড, প্রাক্তন সিটি কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস, এমপি নাথানিয়েল আর্সকিন-স্মিথ, এমপিপি রিমা বার্নস-ম্যাকগোয়ন ও ডলি বেগম, সকলে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্যে অর্গানাইজেশন ফর টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক্ ও টরন্টোর সমগ্র বাংলা কমিউনিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একুশে ফেব্রæয়ারি সকলের সাথে প্রভাত ফেরিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।