Home কানাডা খবর বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের নিন্দা

বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন পরিষদের কয়া গ্রামে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীনের (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে কতিপয় দুষ্কৃতিকারীরা। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সংগঠন টরন্টো ফিল্ম ফোরাম।

উল্লেখ্য, ১৮৭৯ সালের ৭ই ডিসেম্বর বাঘা যতীন কুষ্টিয়া জেলার কয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের পৈত্রিক বাড়িতে তার ছেলেবেলা কাটে। যতীন শৈশব থেকেই শারীরিক শক্তির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। শুধুমাত্র একটি ছোরা নিয়ে তিনি একাই একটি বাঘকে হত্যা করতে সক্ষম হন বলেতার নাম রটে যায় ‘বাঘা যতীন’।

কলকাতা সেন্ট্রাল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের সংস্পর্শে আসেন এবং তার সামাজিক চিন্তাভাবনা, এবং রাজনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র ভারত সম্পর্কে তাঁর চিন্তাধারা বাঘা যতীনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যতীন ছিলেন শক্ত-সমর্থ ও নির্ভীক চিত্তধারী এক যুবক। অচিরেই তিনি একজন আন্তরিক, সৎ, অনুগত এবং পরিশ্রমী বিপ্লবী হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। একই সঙ্গে তার মধ্যে দৃঢ আত্মমর্যাদা ও জাতীয়তাবোধ জন্মেছিল। ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’ দলের প্রধান নেতা। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের জন্য তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নেন এবং ১৯১৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার বালাশরে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে মারা যান।

টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সদস্যরা মনে করেন, বাঘা যতীনের দেশ প্রেম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সন্তানদের জানিয়ে দেয়া সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই সাথে তাঁর স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার জন্য সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সরকারকে সব সময় এগিয়ে আসতে হবে। বাঘা যতীনের মত দেশ প্রেমিকদের লড়াই ও আত্মত্যাগের ফলেই আমরা আমাদের ভূ-খণ্ড থেকে ব্রিটিশদের প্রায় দু’শত বছরের কালো শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

টরন্টো ফিল্ম ফোরাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবী জানায়, দেশকে সকল প্রকার ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কালো থাবা থেকে মুক্তির জন্য কাজ করতে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ও বাংলাদেশের সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির বন্ধন বিনিষ্টকারীদের অপতৎপরতা রোধে সর্বোচ্চ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। সেই সাথে সংগঠনটি, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এইসব ধর্মান্ধ ও মানব সভ্যতা বিরোধী অপশক্তিকে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে প্রতিরোধ করতে আহবান জানায়।

Exit mobile version