Home কানাডা খবর ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতি, নতুন জোট ও বাণিজ্য অংশীদার খুঁজছে কানাডা

ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতি, নতুন জোট ও বাণিজ্য অংশীদার খুঁজছে কানাডা

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কারণে নতুন জোট ও বাণিজ্য অংশীদার খুঁজছে কানাডা।

ট্রাম্প ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব দখলের চাপ বাড়িয়েছেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ব্যাংক অব কানাডার সাবেক গভর্নর মার্ক কার্নি গত বছর নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে বিজয়ী হন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও কানাডা দখলের হুমকি মোকাবিলায় নতুন অর্থনৈতিক জোট গড়ে তুলবেন।

সোমবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে কার্নি বিশ্ব ভ্রমণে বের হন এবং এমন কিছু দেশে সফর করেন, যেগুলো আগে কানাডার পররাষ্ট্রনীতিতে তেমন গুরুত্ব পায়নি।

রবিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কার্নি বলেন, বিভিন্ন দেশের সিদ্ধান্তের কারণে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠান ও নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

তিনি দোহায় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন চুক্তিতে অগ্রগতির কথা জানান।

কার্নি বলেন, যেখানে অগ্রগতি হচ্ছে, সেখানে কানাডা ও একই মানসিকতার দেশগুলো স্বল্পসংখ্যক দেশের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে এগোতে চায়।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে চায় কানাডা।

দোহায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, এই অস্থির সময়ে কানাডা নেতৃত্ব দেবে এবং এমন দেশগুলোকে এক টেবিলে আনবে, যারা এই ভূমিকায় সহযোগিতা করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাণিজ্য বৈচিত্র্য বাড়াতে তৎপর হয়েছে। তারা ২৫ বছরের আলোচনার পর দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের সঙ্গে চুক্তি করেছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে চুক্তি হালনাগাদ করেছে। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে আলোচনাও পুনরায় শুরু করেছে ইইউ।

ইইউ যেখানে তাদের মোট পণ্য রফতানির মাত্র ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়, সেখানে কানাডার প্রায় ৭০ শতাংশ রফতানি যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

এক হিসাবে বলা হয়েছে, কানাডাকে যদি যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১০ শতাংশ কমাতে হয়, তবে চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, মেক্সিকো, ইতালি ও ভারতে রফতানি দ্বিগুণ করতে হবে।

কার্নি আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কানাডার রফতানি দ্বিগুণ করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি করতে হলে চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম পেলরিন বলেন, চীনের সঙ্গে খুব দ্রুত ও গভীরভাবে যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার রফতানির অংশ কোভিড-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র এখনও কানাডার মোট রফতানির ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ গ্রহণ করে। কানাডার ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলও যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

কার্নি সম্প্রতি কাতার সফর করা প্রথম কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৭ সালের পর তিনিই প্রথম কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীন সফর করেন।

বেইজিংয়ে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন বেশি পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার।

তিনি শিগগিরই ভারত সফরের পরিকল্পনাও করছেন। আগের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

এছাড়া কানাডা ইকুয়েডর ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করেছে।

কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু বলেন, আগামীতে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মারকোসুর, সৌদি আরব ও ভারতের দিকে নজর দেবে কানাডা।

তিনি বলেন, সাধারণত কানাডা বছরে একটি বাণিজ্য চুক্তি করে। কিন্তু এবার আমরা যত দ্রুত সম্ভব একাধিক চুক্তি সম্পন্ন করতে চাই।

সূত্র: রয়টার্স

Exit mobile version