অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিজেদের দখলে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেন, প্রণালিটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, তবে হোয়াইট হাউস এটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ভাবছে এবং সেখানে “অনেক কিছুই” করা সম্ভব।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ১০ দিন আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত নষ্ট হয়ে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বিমানবাহিনীও নিস্ক্রিয়। তার ভাষায়, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এখন অনেক এগিয়ে আছি। যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে।”
ইরানের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনও তেলের ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু হবে। তবে ট্রাম্পের মতে, এই সংকটের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা হাতে রয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি তার চিন্তার মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। তৎক্ষণাৎ ইরানও পাল্টা হামলা চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এই সংঘর্ষ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহে প্রভাব বিস্তার করতে চাচ্ছে, পাশাপাশি ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে চাইছে।
সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বিশ্ব বাজারে বিপুল অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের সমাপ্তি ও হরমুজ প্রণালি দখলের পরিকল্পনা উভয়েরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তেল সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং ইরানের কার্যক্রম সীমিত করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন হরমুজ প্রণালি এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ে যুদ্ধের ফলাফল ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র : সিবিএস নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান
