নিশি যাপন

মনে পড়ে সেই কবে তরী নিয়ে দোঁহে,
শীতলক্ষ্যা- বুকে ভেসে বেড়াতাম যবে,
চোখে চোখে কথা হতো ভালোলাগা মোহে,
চির কাল সেই মধু ক্ষন হৃদ মাঝে রবে।

বিভাবরী কেটে যেত সেই
নদী দেখে,
গান গেয়ে হয়ে যেত পুরো নিশি পার,
ভুলে গেছি সব ব্যথা ভালোবাসা মেখে,
হাতে হাত রেখে দোঁহে হ’নু দুজনার।

পূর্ণিমার রাতে জলে চাঁদের আলোয়
মাঝি যত গেয়ে যেত ভাটিয়ালী গান
শোনা যেত নদী মাঝে স্রোতেরও লয়
দুজনে শুনেছি কত পেতে দিয়ে কান।

সেসব দিন আর কভু পাব নাকো ফিরে
স্বপন দেখেছি মোরা যত কিছু ঘিরে\

নায়েগ্রা জলপ্রপাত

দিবাকরের রশ্মিতে জলে নায়েগ্রার,
অপূর্ব লীলা যে এক প্রকৃতি ঘটায়।
মনমুগ্ধ সুনীলের রূপের ছটায়,
সাধ্য কারো থাকে নাকো চোখ সরাবার।

মা-বাবা ভাই-বোনকে না নিয়ে দেখার,
মোর মন ভরে ছিল গভীর ব্যথায়।
নায়েগ্রা জলপ্রপাত প্রথম দেখায়,
চোখ ভরে গিয়েছিল জলেতে আমার।

শনি-রবি নিশি সেথা রঙের বাতিতে,
মানুষ সাজায় সেই জলপ্রপাতেরে
যতবার গেছি এই নায়েগ্রা দেখিতে
দেখেছিনু আতশবাজি প্রতি রবিবারে।

সে’প্রপাতে চোখে ক্লান্তি না হয় যে কভু,
কী এক অপূর্ব সৃষ্টি করেছে যে প্রভু\

ভালোবাসা

ভালোবাসা যেন এক সোনার হরিণ
সত্যিকারের প্রেমের নেই কোন ক্ষয়
ভালোবেসে দুজনের থাকে একই লয়
জীবনে কজন আর পায় এ’ দ্রবিণ

ভালোবাসা পেতে ছোটে উত্তর দক্ষিণ
ভালোবাসি এ’কথাটা অনেকেই কয়
ভালোবেসে অনেকে মনে গেঁথে রয়
প্রেম পেতে পৃথিবীটা করে প্রদক্ষিণ

ভালোবাসা পৃথিবীতে বড়োই দুর্লভ
কেউ পেয়ে গেলে হয় পুরোই নির্লোভ।

ভালোবাসা জীবনের অমূল্য রতন
পেয়ে গেলে মানবের পাল্টে যায় গতি
ভালোবাসাকে করতে হয় যে যতন
তাহলেই ঠিক থাকে যুগলের মতি।

অমানিশি

কষ্টের মেঘেরা সব আকাশ ছেয়েছে
ফেলে আসা দিন ডাকে যে আমায়
যবে আমি শুধু ঘিরে ছিনু যে তোমায়
আজ আমায় যে ঘন আঁধারে ঢেকেছে।

করুণ বিরহ বাঁশি মনেতে বেজেছে
ভালোবাসা ভালো লাগা পাবো যে কোথায়
মন চায় ছুটে যেতে তোমার ছোঁয়ায়
বিরহীনি শেষ রাগ গেয়ে যে ফেলেছে।

জীবন হলো পূর্ণিমা হারা চিরতরে
অমাবস্যার আঁধার শুধু যে ভেতরে।

অতীত স্মৃতির তরে হৃদ আজো কাঁদে
সুখ টুকু ধরে রাখা গেল না কিছুতে
ফেলে আসা দিনগুলো ফেলেছে কী ফাঁদে
চির অমানিশি চলছে যে মম পিছুতে।

অমরত্ব

জন্মের সাথে সাথেই মৃত্যু থাকে লেখা,
প্রাণ থাকলেই তার তো অবসান হবে,
শরীরের অমরত্ব না যায় যে দেখা,
স্বশরীরে অমরত্ব পেয়েছে কে কবে!

নশ্বর শরীর মিলে যাবে পঞ্চভ‚তে,
শরীরের মৃত্যু হবে অনিবার্য সাঁঝে,
কর্ম শুধু অমরত্ব দিতে পারে যুতে,
অমর হয় মানুষ কৃতকার্য মাঝে।

কর্ম মাঝে নির্ধারিত সব আয়ুষ্কাল,
জীবনের ঘরা যার ভালো কাজে ভরা,
মানুষের মাঝে বাঁচে সে অনন্তকাল,
মনোযোগ থাকে যার সৃষ্টি কর্ম করা।

দেহ রক্ষা মাঝেতে না করে অশ্রুপাত,
কাজ মাঝে করতে হয় যে কালাতিপাত\
অটোয়া, কানাডা