বিশ্বকাপের স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট 'গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র' ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের দেখার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে এসব নথি দেখার ক্ষেত্রে 'কঠোর পর্যালোচনা নীতিমালা' অনুসরণ করতে হবে।
গত মাসে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ফিফাকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। এর মধ্যে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের বহুল বিতর্কিত প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ এবং সংস্থাটির পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
এর আগে ফিফা কাউন্সিলের এক সভায় প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাতিল হয়ে যাওয়া এই বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে কীভাবে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। বরং এ বিষয়ে প্রশ্নগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম সংস্থাটির প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্ষদের সদস্যদের চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি জানান, কাউন্সিল সদস্যরা সংশ্লিষ্ট 'গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র' দেখতে পারবেন। তবে তা দেখতে হবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে।
বিবিসি স্পোর্টের দেখা ওই চিঠিতে গ্রাফস্ট্রম উল্লেখ করেছেন, 'গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর পর্যালোচনা নীতিমালার আওতায়' নথিগুলো দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আগ্রহী কাউন্সিল সদস্যদের এ জন্য নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।
তবে ঠিক কোন কোন নথি দেখার সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিবিসি স্পোর্ট জানতে পেরেছে, উয়েফার বেঁধে দেওয়া দুই সপ্তাহের মধ্যে শতাধিক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময়সীমাকে বাস্তবসম্মত মনে করেনি ফিফা। সম্প্রতি আজারবাইজানে নতুন একটি যুব বিশ্বকাপ আয়োজন এবং চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় বিশেষ কংগ্রেসের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব দেওয়া কঠিন বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে উয়েফার দায়ের করা আইনি পদক্ষেপের কারণেও কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ফিফার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে উয়েফা। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
গত মাসে ফিফাকে পাঠানো চিঠিতে উয়েফা জানিয়েছিল, সংস্থাটি 'বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের' জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
আট পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে এফএফই প্রস্তাব, জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে অর্থায়ন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়া এবং বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
চিঠিতে উয়েফা লিখেছিল, 'এফএফই প্রস্তাব প্রত্যাহার, ভুল স্বীকার এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা থেকে এটা পরিষ্কার হয় না যে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছিল কিংবা যথাযথ সময়ে ফিফা কাউন্সিলকে কেন সম্পৃক্ত করা হয়নি।'
চিঠিতে আরও বলা হয়, 'এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে হবে। ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা পর্যন্ত তা পিছিয়ে দেওয়া যাবে না। একইভাবে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলে ইতিমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।'
ফিফা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে উয়েফা কী পদক্ষেপ নেবে, তা অবশ্য জানায়নি। তবে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন কি না, তা জানানোর শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। এর আগে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়াতেই উয়েফার এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রাফস্ট্রম তার চিঠিতে দাবি করেছেন, উয়েফার পাঠানো প্রশ্নের সংখ্যা ফিফা প্রশাসনের প্রত্যাশার তুলনায় 'উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি'। এ কারণে সব প্রশ্নের জবাব দিতে সংস্থাটি বর্তমানে কাজ করছে। যথাসময়ে সেই উত্তর কাউন্সিলের সব সদস্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এফএফই প্রস্তাবের বিষয়ে গ্রাফস্ট্রম আরও বলেছেন, 'ফিফা কাউন্সিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সংস্থার সম্মিলিত ও বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়া এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল না। আর প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করায় ফিফাকে কোনো ধরনের আর্থিক বা অন্য কোনো জরিমানা দিতে হয়নি এবং হওয়ার কথাও নয়।'
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উয়েফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি স্পোর্ট। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।