ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটগুলোতে সাইবার হামলা ও হ্যাকিংয়ের
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটগুলোতে সাইবার হামলা ও হ্যাকিংয়ের চেষ্টায় ভয়াবহ অচলাবস্থা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার ইউরোপের এই হ্যাকিং হামলা পুরো মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সুইডেন থেকে বেলজিয়াম পর্যন্ত দোকানগুলোতে থাকা ফ্রিজ ও ফ্রিজার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দোকান মালিকরা সংরক্ষিত খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হন। গত মাসে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে দোকান মালিকরা দাবি করেছেন।
এই হামলায় কয়েক ডজন দোকানের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার ইউনিটের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে সুপারমার্কেট গ্রুপ আহোল্ড ডেলহাইজে এবং কোলরুইট এই হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। পাশাপাশি সুইডিশ খুচরা পণ্য বিক্রেতা চেইন প্রতিষ্ঠান আইসিএ ও কুপের স্টোরগুলো আক্রান্ত হয়। এমনকি আসবাবপত্র ও মিটবল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আইকিইএর অন্তত একটি স্টোরও হ্যাকিং থেকে রেহাই পায়নি।
স্টকহোমের একটি আইসিএ ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টোর পরিদর্শনের সময় সেখানকার সেলস ম্যানেজার এংলা ইংওয়াল রয়টার্সকে বলেন, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ২টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিষয়টি সবার নজরে আসে কয়েক ঘণ্টা পর।
‘‘এখানে একটি সাইবার হামলা হয়েছে এবং আমাদের সব ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়।’’
ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আইসিএর একজন মুখপাত্র বলেন, রাতের বেলায় ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাদের সীমিতসংখ্যক স্টোরের রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এ বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে।
এর আগে, গত মাসে ফ্রান্সেও একই ধরনের হামলা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, হ্যাকাররা শত শত সুপারমার্কেটের কুলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেওয়ায় আগুন ধরে যায় এবং খাবারে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া গত মাসে আহোল্ডও পুলিশের কাছে সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ করেছিল।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামোর ওপর এমন হাইব্রিড হুমকি ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মস্কো অবশ্য নাশকতা বা হাইব্রিড যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বারবার অস্বীকার করে আসছে। সোমবারের এই হামলার পেছনে ঠিক কারা ছিল বা এগুলো ফ্রান্সের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।