ই-পেপার

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেয়েছেন বর্তমান

আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪
২১ ভিউ
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেলেন লুলা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শেষে ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ লুলার বিজয় নিশ্চিত করে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন প্রায় ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ ভোট।

প্রথম দফার নির্বাচনে লুলার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন ফ্লাভিও। কিন্তু কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। সেখানে ব্যবধান গড়ে দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। ব্রাজিলের সামরিক শাসনের অবসানের পর ১৯৮৫ সাল থেকে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম দফায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কোনো প্রার্থীর দ্বিতীয় দফায় জয় পাওয়ার ঘটনা এটি প্রথম।

ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। এবারের নির্বাচনে বাবার রাজনৈতিক সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন লুলা। এবারও জয় পাওয়ায় তাঁর চতুর্থ মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি।

নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্যের দাম ও জননিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ ছিল। ফ্লাভিও বলসোনারো অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ এবং খাদ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে লুলা তাঁর সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।

বিজয়ের পর লুলার সমর্থকেরা বিভিন্ন শহরে আনন্দ উদ্‌যাপন করেন। তবে ফ্লাভিও বলসোনারো পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি তুলেছেন। ভোটের সময়সীমা শেষ মুহূর্তে দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি ফল গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন। দুই প্রার্থীই ভোটের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তথ্যসূত্র: এপি, রয়টার্স, বিবিসি