ই-পেপার

এবার দিল্লির পথে কৃষকরা, নতুন চাপে মোদি সরকার

দিল্লিতে একদিকে তরুণদের আন্দোলন, অন্যদিকে কৃষকদের নতুন

আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৬
১৭ ভিউ
এবার দিল্লির পথে কৃষকরা, নতুন চাপে মোদি সরকার

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : দিল্লিতে একদিকে তরুণদের আন্দোলন, অন্যদিকে কৃষকদের নতুন কর্মসূচি—দুই দিকের চাপের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করে ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে’ যোগ দিতে পাঞ্জাব থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়া হাজারো কৃষককে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।

কৃষকদের অভিযোগ, রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ২০২৪ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় দিল্লির সীমান্তে নেওয়া কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে।

জানা গেছে, শম্ভু সীমান্তে পৌঁছানোর পর পাঞ্জাবের কৃষকদের সামনে ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের আটকে দেওয়া হয়। তবে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকদের দিল্লিমুখী যাত্রায় একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পেরে শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান শুরু করেন পাঞ্জাবের কৃষকেরা। তাদের দাবি, এটি কোনো সংঘাতের কর্মসূচি নয়, বরং নিজেদের দাবি তুলে ধরার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেছেন, পাঞ্জাবের সীমানার ভেতর পর্যন্ত এসে হরিয়ানা পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করেছে। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় পাঞ্জাব সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

কৃষকদের এই কর্মসূচির মধ্যেই দিল্লিতে চলছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের তদন্ত ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। পুলিশি বাধা ও সংঘর্ষের পর রাজধানীর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরপর দুটি বড় আন্দোলন দিল্লির রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের প্রতিবাদ এবং কৃষকদের অসন্তোষ একই সময়ে জোরালো হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা ও বাণিজ্যনীতি—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একসঙ্গে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে দিল্লির রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।