দেশজুড়ে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং শিক্ষা
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : দেশজুড়ে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং শিক্ষা খাতের বেহাল দশার বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের সাথে এবার যুক্ত হতে চলেছেন ফ্রান্সের আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ (Yellow Vest) আন্দোলনের কর্মীরাও। এর ফলে পুরো ফ্রান্সে নতুন করে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্যারিসের শহরতলী ক্রেটেইয়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শুরুতে স্কুলের জরাজীর্ণ ভবন, অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলেও পরবর্তীতে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অর্থনৈতিক অসন্তোষে রূপ নিয়েছে।
সহিংসতার শঙ্কা ও সরকারি পদক্ষেপ
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, পুলিশি পদক্ষেপে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। মানবাধিকার আইনজীবীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় পুলিশের মারমুখী পদক্ষেপে কয়েকজন কিশোর গুরুতর জখম হয়েছেন; যার মধ্যে লেন্স শহরের এক ১৫ বছর বয়সী কিশোর স্টান গ্রেনেডের বিস্ফোরণে তার হাত এবং ট্যুর শহরের এক ১৬ বছর বয়সী কিশোর রাবার বুলেটের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুয়েজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারের তরফ থেকে উচ্চশিক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল এবং ৩,০০০ বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিক্ষোভ থামানো যায়নি। সরকার মনে করছে, আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
‘ইয়েলো ভেস্ট’দের অংশগ্রহণ
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের প্রথম মেয়াদে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা এবার শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। বিক্ষোভের ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ১,৭৫০টি স্থানে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা দেখা গেছে। আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ জেরোম রদ্রিগেজ এক ভিডিও বার্তায় শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সংকটের মুখে থাকা ফরাসি সরকার একদিকে জনসেবা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের দাবি এবং অন্যদিকে দেশের ক্রমবর্ধমান বিশাল ঋণ সামাল দেওয়ার তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজকের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ফরাসি রাজনীতি ও ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।