ই-পেপার

রাশিয়াসংশ্লিষ্ট শুল্ক নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে ভারত-চীন

রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের

আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১৪
১২ ভিউ
রাশিয়াসংশ্লিষ্ট শুল্ক নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে ভারত-চীন

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি ক্রেতা ভারত ও চীন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে শুক্রবার নির্বাহী আদেশ জারি করে নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী আদেশে তিনি বলেন, ‘আমি গ্রাহাম আইনে নির্ধারিত এসব নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্কের প্রয়োগ মওকুফ করছি। এ সময় এমন ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে—এ মর্মে আমি কংগ্রেসে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

তবে এ সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট শুল্ক স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে গেছে। বরং আপাতত সেগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প আবারও এসব পদক্ষেপ কার্যকর করতে পারবেন।

‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের আইনটি গত মাসে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জন্য মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই এ আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আইনটির প্রধান উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তার নামেই আইনটির নামকরণ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা—চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাওয়ার কথা ছিল প্রেসিডেন্টের। পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ জ্বালানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

আইনটির আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনে কিংবা মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করে, এমন দেশগুলোর ওপরও শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্প ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারত। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগে থেকেই প্রযোজ্য ১০ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ছিল। তবে ভারতীয় রপ্তানিতে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব নির্ধারণ করা যেত শুল্কের চূড়ান্ত হার ঘোষণার পর।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। চীনও রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা।

এ কারণে নতুন আইনের আওতায় ভারত ও চীনের ওপর শুল্ক আরোপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে আপাতত সেই আশঙ্কা কমেছে।

রাশিয়াসংশ্লিষ্ট শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে ছাড় দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পকে মস্কোর প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেছেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নতুন আদেশের ফলে ভারত ও চীন আপাতত সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্কের চাপ থেকে স্বস্তি পেলেও, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এসব ব্যবস্থা আবার কার্যকর করবে কি না, তা নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।