ই-পেপার

হরমুজে টোল আদায়ের ঘোষণা: যেভাবে নিজের ফাঁদে নিজেই পড়লেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ২১:১৯
১৮ ভিউ
হরমুজে টোল আদায়ের ঘোষণা: যেভাবে নিজের ফাঁদে নিজেই পড়লেন ট্রাম্প

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত পরিকল্পনা ও নীতিগত ভুল আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আকস্মিক ২০ শতাংশ টোল বা ফি আরোপের ট্রাম্পের এক ঘোষণা ঘিরে হোয়াইট হাউজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। যদিও তীব্র আপত্তির মুখে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন, তবে এই ঘটনা চলমান ইরান যুদ্ধ নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের দূরদর্শিতার অভাব এবং ভুল রণকৌশলকে আবার সামনে এনেছে।

সিএনএন-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা তাঁর নিজের উপদেষ্টা এবং উপসাগরীয় মিত্রদের চরম বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করে। উপদেষ্টারা মাসের পর মাস ট্রাম্পকে এই ধরণের পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের এই টোল আদায়ের চেষ্টা ওয়াশিংটনের নিজস্ব যুদ্ধ উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দেবে। একই সাথে এটি ইরানের সেই দাবিকেই বৈধতা দেবে যে, জলপথ নিরাপদ রাখার জন্য ইরানও ফি আদায় করতে পারে।

বাস্তবেও তা-ই ঘটেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ধারণাকে স্বাগত জানিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠিকই বলেছেন। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপত্তা যে নিশ্চিত করবে, তার ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। তবে ২০% ফি একটু বেশি, আমরা আরও যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করব।" ইরানের এমন চতুর প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পররাষ্ট্র কৌশলকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।

যদিও হোয়াইট হাউজ পরবর্তীতে দাবি করে যে, উপসাগরীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরণের বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ায় ট্রাম্প এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেছেন, তবে বিশ্লেষকরা এটিকে ট্রাম্পের মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিকে "লেনদেনমূলক" এবং খেয়ালখুশি মতন পরিচালনার আরেকটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে ট্রাম্পের অতীতের বহু ‘ভুল ভবিষ্যদ্বাণী’ এবং দাবি বর্তমান বাস্তবতার সাথে মিলছে না। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় শেষ, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েও ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাঙতে পারছে না। উল্টো বিপুল পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র ও আর্থিক ব্যয় মার্কিন অর্থনীতি ও বিশ্ব বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

সমালোচকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট বা কার্যকর পরিকল্পনা নেই, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।