ই-পেপার

ইরানের সঙ্গে মক্কা জোটের বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য কী, জানালো সৌদি আরব

ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা। মক্কা

আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১
২২ ভিউ
ইরানের সঙ্গে মক্কা জোটের বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য কী, জানালো সৌদি আরব

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতাভুক্ত এই তিন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই।

সৌদি আরব জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, সামরিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং সংকটের অবসানে সমঝোতার পথ তৈরি করাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে বৃহত্তর সংঘাতের হুমকির মধ্যে এ বৈঠক কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার সর্বশেষ, এমনকি শেষ সুযোগও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, তেহরানে ইতোমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সামরিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই এ আলোচনার লক্ষ্য।

এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা যেন আবার না বাড়ে, সে জন্য আলোচনার পথ খুলে দেয়া এবং সংকটের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে সৌদি আরব।’

বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই।

এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গত মাসে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার পর এই প্রথম তিন দেশের জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের বৈঠক হচ্ছে।

রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার তোহিদ আসাদি বলছেন, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার শেষ সুযোগ হতে পারে তেহরানের এই বৈঠকটি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক শুরু হওয়ার পর এর রুদ্ধদ্বার আলোচনায় কী হচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলতে ইরানি কর্মকর্তাদের আগ্রহ ক্রমেই কমছে।

তিনি বলছেন, রোববার কাতারের প্রতিনিধিদলের সফর নিয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি ওই আলোচনা ‘নিয়মিত মতবিনিময়’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন বেশ স্পষ্ট।

এই বৈঠককে কূটনৈতিক তৎপরতা পুনরুজ্জীবিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পাবে।

আল জাজিরা বলছে, ইরান দুই ধরনের বার্তা দিচ্ছে। একদিকে দেশটি বলছে, কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। তবে বিরোধের মূল বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে, তা-ও স্পষ্ট।

বৈঠকটিকে দেখার আরেকটি দিক হলো, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে কোন কোন সীমা অতিক্রম করা যাবে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান তুলে ধরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার এটিই সর্বশেষ, হয়তো শেষ সুযোগ।