হরমুজ প্রণালির অবরোধ ঘিরে ইরানকে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে ইরানের দেওয়া একগুচ্ছ শর্ত মেনে নিতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন।
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক:
এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছেন, রোববার (২৫ অক্টোবর) ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে হবে, নয়তো দেশটিতে আবারও হামলা চালানো হতে পারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ হুমকি দেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
তেহরানে যেকোনো সময় মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সাংবাদিকরা ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।’
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হলে নতুন হামলা এড়াতে পারবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে কি না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখা।
গত বছরের জুনে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোয় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওই হামলা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাজটি হয়তো সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়তো তারা হয়তো চুক্তি করবে। আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি—যেভাবেই হোক, আমরা জিতব।’
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাঁদের মতে, এ সংঘাতে সামরিক উপায়ে সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা উভয় পক্ষের জন্যই সীমিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের বাহিনীগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালানোর একটি ধারায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক থেকে কোনো পক্ষই স্থলভাগে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়নি। তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।